27.1 C
Kolkata
July 6, 2026
রাজ্য

বারুইপুরে নাবালিকা হত্যা মামলায় মূল অভিযুক্ত গ্রেপ্তার, চারটি মামলা রুজু, কড়া শাস্তির আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রী

বারুইপুর, ৬ জুলাই— দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে ১২ বছরের নাবালিকার হত্যা মামলায় মূল অভিযুক্ত আনন্দ সর্দারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার বারুইপুর এলাকা থেকে রাজ্য পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল এবং বিশেষ অভিযানকারী বাহিনীর যৌথ অভিযানে তাকে ধরা হয়। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত তিন জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। তদন্তে সহযোগিতার জন্য কয়েক জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদও করা হচ্ছে।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, নাবালিকার পরিবারের সঙ্গে তিনি ইতিমধ্যেই কথা বলেছেন। মঙ্গলবার নিহতের বাবাকে ভবানী ভবনে ডাকা হয়েছে। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং পরিবারকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারটি পৃথক মামলা দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে একটি নাবালিকার হত্যা ও গণধর্ষণের অভিযোগ সংক্রান্ত। বাকি মামলাগুলি গণপিটুনিতে এক ব্যক্তির মৃত্যু, পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর উপর হামলা এবং রেললাইন অবরোধ ও সরকারি সম্পত্তি নষ্টের অভিযোগে রুজু করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘পরিবার চার জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে। এখনও পর্যন্ত তিন জন গ্রেপ্তার হয়েছে। তদন্তে উঠে আসা সমস্ত তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরিবারের যা প্রয়োজন, সরকার তা করবে। তাঁরা সহযোগিতা চেয়েছেন, সেই সহযোগিতা দেওয়া হবে।’

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার থেকে নিখোঁজ ছিল ১২ বছরের নাবালিকা। রবিবার একটি পুকুর থেকে তার দেহ উদ্ধার হয়। পরিবারের অভিযোগ, তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। যদিও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে পুলিশ চূড়ান্ত মন্তব্য করতে রাজি নয়। ময়নাতদন্ত, ফরেন্সিক পরীক্ষা এবং অন্যান্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ভিত্তিতেই তদন্ত এগিয়ে চলেছে।

ঘটনার জেরে রবিবার বারুইপুরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুব্ধ জনতার গণপিটুনিতে এক সন্দেহভাজনের মৃত্যু হয়। দীর্ঘ সময় ধরে সড়ক ও রেল অবরোধ চলে। শিয়ালদহ-নামখানা শাখায় ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়। বর্তমানে বারুইপুর, নরেন্দ্রপুর এবং সোনারপুর থানা এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি রয়েছে।

পুলিশের দাবি, মূল অভিযুক্ত আনন্দ সর্দারকে গ্রেপ্তারের পর তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে। মঙ্গলবার তাকে আদালতে তোলা হবে। এর আগে গ্রেপ্তার হওয়া প্রভাস মণ্ডল এবং দিবাকর সর্দারকে আদালত ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠিয়েছে।

তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এই মামলার প্রতিটি দিক অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান, ফরেন্সিক রিপোর্ট, ময়নাতদন্তের ফল এবং ডিজিটাল প্রমাণ সংগ্রহ করে ঘটনার পূর্ণ সত্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে।

Related posts

Leave a Comment