27.1 C
Kolkata
July 7, 2026
রাজ্য

সিএএ-র আওতায় নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ হবে

কলকাতা থেকে ঘোষণা অমিত শাহের

কলকাতা, ৭ জুলাই— নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ)-এর আওতায় প্রতিবেশী দেশ থেকে ধর্মীয় নির্যাতনের শিকার হয়ে ভারতে আসা প্রকৃত উদ্বাস্তুদের নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া খুব শীঘ্রই সম্পূর্ণ হবে বলে ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ভারতকেশরী ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কলকাতায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই ঘোষণা করেন।

অমিত শাহ বলেন, ১৯৫০ সালের ৮ এপ্রিল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলি খানের মধ্যে স্বাক্ষরিত নেহরু-লিয়াকত চুক্তির উদ্দেশ্য ছিল দুই দেশের সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষা করা। তবে তাঁর দাবি, সেই চুক্তিতে পাকিস্তান এবং তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে বসবাসকারী হিন্দু সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও স্বার্থ যথাযথভাবে সুরক্ষিত হয়নি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় সেই চুক্তি বিশ্লেষণ করে বুঝতে পেরেছিলেন যে, পাকিস্তান ও পূর্ব পাকিস্তানের হিন্দু সংখ্যালঘুদের স্বার্থ সেখানে উপেক্ষিত হয়েছে। তাঁর মতে, সেই সময় থেকেই সংখ্যালঘু হিন্দুদের নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকারের প্রশ্নে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় সরব হয়েছিলেন।

অমিত শাহ জানান, বর্তমানে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের প্রতিষ্ঠিত ভারতীয় জন সঙ্ঘের আদর্শ বহনকারী দল সরকারে রয়েছে। সেই কারণেই ধর্মীয় নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রতিবেশী দেশ থেকে ভারতে আশ্রয় নেওয়া হিন্দু-সহ অন্যান্য যোগ্য উদ্বাস্তুদের নাগরিকত্ব দেওয়ার জন্য সিএএ কার্যকর করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘যাঁরা সিএএ-র আওতায় নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্য, তাঁদের প্রত্যেককেই নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। এই প্রক্রিয়া খুব শীঘ্রই সম্পূর্ণ করা হবে।’

অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাজেরও প্রশংসা করেন অমিত শাহ। তিনি দাবি করেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী সমাজবিরোধী ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছেন। একই সঙ্গে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর করার প্রতিশ্রুতিও পূরণের পথে রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের মুখোমুখি হতেই হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান কঠোর থাকবে বলেও তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন।

অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও। তিনি বলেন, ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবন দেশের মানুষের মধ্যে এক নতুন চেতনার জন্ম দিয়েছিল। তাঁর আদর্শ শুধু একটি রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিষ্ঠায় সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং ভারতীয় রাজনৈতিক দর্শনের নতুন দিশা তৈরি করেছিল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতীয় জন সঙ্ঘ প্রতিষ্ঠার সময় দেশে কংগ্রেসের প্রবল রাজনৈতিক প্রভাব ছিল। সেই প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বিকল্প রাজনৈতিক আদর্শ প্রতিষ্ঠার সাহস দেখিয়েছিলেন। তাঁর সেই উদ্যোগই পরবর্তীকালে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে ওঠে।

Related posts

Leave a Comment