পশ্চিমবঙ্গ গঠনে তাঁর অবদান স্মরণ
বিরাটি, ৭ জুলাই: ভারতকেশরী ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে উত্তর ২৪ পরগনার বিরাটিতে শ্রদ্ধা ও স্মরণে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করল শ্যামাপ্রসাদ স্মরণ কমিটি। উত্তর দমদম পুরসভার সামনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবন, কর্ম, রাষ্ট্রচিন্তা এবং পশ্চিমবঙ্গ গঠনে তাঁর ঐতিহাসিক ভূমিকার উপর আলোকপাত করেন বক্তারা।
অনুষ্ঠানের প্রধান উদ্যোক্তাদের মধ্যে ছিলেন শ্যামাপ্রসাদ স্মরণ কমিটির সভাপতি সুভাষ মল্লিক, ইন্দ্রনাথ দে-সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রমেন দে-সহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ, শিক্ষাবিদ এবং বিশিষ্ট নাগরিকেরা।
অনুষ্ঠানের সূচনায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে ইন্দ্রনাথ দে বলেন, দেশভাগের সময় পশ্চিমবঙ্গকে ভারতের অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে ভারতকেশরী ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ঐতিহাসিক ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। তাঁর দৃঢ় নেতৃত্ব, রাষ্ট্রচিন্তা এবং সংগ্রামী মানসিকতার ফলেই বাংলার একটি বড় অংশ ভারতের অন্তর্ভুক্ত থাকতে পেরেছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় শুধু একজন রাজনীতিবিদ ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, চিন্তাবিদ এবং দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক। তাঁর পাণ্ডিত্য, ধর্মনিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি এবং সমাজের সব মানুষের অধিকার রক্ষার আদর্শ আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে হিন্দু সমাজের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাঁর অবদান ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে সুভাষ মল্লিক বলেন, নতুন প্রজন্মের কাছে ভারতকেশরী ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আদর্শ ও জীবনসংগ্রাম পৌঁছে দেওয়া সময়ের দাবি। দেশের ঐক্য, জাতীয় চেতনা এবং সমাজকল্যাণে তাঁর অবদান নিয়ে আরও বেশি আলোচনা ও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি মত প্রকাশ করেন।
রমেন দে-সহ অন্যান্য বক্তারাও ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের বহুমুখী অবদানের কথা তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, স্বাধীন ভারতের প্রথম শিল্পমন্ত্রী, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বকনিষ্ঠ উপাচার্য এবং জননেতা হিসেবে তাঁর কর্মজীবন দেশের ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায়। তাঁর আদর্শ ও দেশপ্রেম বর্তমান প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে বলেও বক্তারা মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলে ভারতকেশরী ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। জাতীয় ঐক্য, দেশপ্রেম এবং সমাজসেবার আদর্শকে সামনে রেখে তাঁর স্মৃতিকে চিরস্মরণীয় করে রাখার অঙ্গীকারও করা হয়।
