27.1 C
Kolkata
July 7, 2026
দেশ

দেশের অগ্রগতির প্রেরণা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আদর্শ

১২৫তম জন্মবার্ষিকীতে বার্তা প্রধানমন্ত্রী মোদীর

দিল্লি, ৭ জুলাই— ভারতকেশরী ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি ভাষণ দিয়ে তাঁর আদর্শকেই বর্তমান ভারতের অগ্রগতির অন্যতম প্রেরণা বলে উল্লেখ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, জাতীয় ঐক্য, দৃঢ় সংকল্প এবং দেশকে সর্বাগ্রে রাখার যে দর্শন ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় তুলে ধরেছিলেন, সেই আদর্শই আজ উন্নত ভারতের পথচলাকে শক্তি জোগাচ্ছে।

পূর্বনির্ধারিত সরকারি সফরের কারণে অনুষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত থাকতে না পারায় দুঃখপ্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তির মাধ্যমে তিনি এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পেরে আনন্দিত। তাঁর কথায়, ‘প্রযুক্তির সাহায্যে আমি আপনাদের সঙ্গে এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে যুক্ত হতে পেরেছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় শুধু বাংলার গর্ব নন, তিনি সমগ্র দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রাষ্ট্রনায়ক। দেশের ঐক্য ও অখণ্ডতা রক্ষার প্রশ্নে তাঁর আপসহীন অবস্থান আজও দেশবাসীকে অনুপ্রাণিত করে। ‘এক দেশ, এক সংবিধান, এক প্রধানমন্ত্রী এবং এক পতাকা’— এই ভাবনার পক্ষে তাঁর দৃঢ় অবস্থানের কথাও স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

দেশভাগের সময় বাংলাকে সম্পূর্ণভাবে ভারতের বাইরে রাখার বিভিন্ন প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, দৃঢ় রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং জনমত গঠনের মাধ্যমে বাংলার একটি বড় অংশকে ভারতের সঙ্গে যুক্ত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের একটি বক্তব্যের উল্লেখ করে বলেন, ‘জাতীয় ঐক্যের ভিত্তির উপরই সোনালি ভবিষ্যৎ নির্মাণ সম্ভব।’ তাঁর মতে, সেই আদর্শ আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক এবং দেশের উন্নয়নের ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।

নরেন্দ্র মোদী বলেন, যে সরকার ‘দেশ সবার আগে’ নীতিতে বিশ্বাস করে, সেই সরকারই প্রকৃত রাষ্ট্রনায়কদের যথাযথ সম্মান দেয় এবং তাঁদের আদর্শ বাস্তবায়নের চেষ্টা করে। প্রতিভার বিকাশ, উদ্ভাবনকে উৎসাহ দেওয়া এবং অর্থনৈতিকভাবে আত্মনির্ভর ভারত গড়ে তোলার লক্ষ্যও সেই আদর্শেরই অংশ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

যুব সমাজের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী আহ্বান জানিয়ে বলেন, স্বাধীন ও ঐক্যবদ্ধ ভারতের জন্য অতীতের সংগ্রামকে আজ উন্নত ভারত গড়ার অঙ্গীকারে পরিণত করতে হবে। আত্মনির্ভর ভারত গঠনের দায়িত্ব দেশের তরুণ প্রজন্মকেই কাঁধে তুলে নিতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ভাষণের শেষে প্রধানমন্ত্রী সকলকে যে কোনও কাজ পূর্ণ নিষ্ঠা, আন্তরিকতা এবং দায়িত্ববোধের সঙ্গে সম্পূর্ণ করার আহ্বান জানান। তাঁর কথায়, ‘যে কাজই শুরু করবেন, তা সম্পূর্ণ গুরুত্ব দিয়ে করুন এবং কোনও কাজ অসম্পূর্ণ রেখে দেবেন না।’

Related posts

Leave a Comment