বারুইপুর, ৬ জুলাই— দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে নাবালিকার রহস্যমৃত্যুর তদন্তের মধ্যেই নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়াল। যে পুকুর থেকে ১২ বছরের নাবালিকার দেহ উদ্ধার হয়েছিল, সোমবার সেই একই পুকুর থেকে এক ব্যক্তির দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মৃতের পরিচয় কৃষ্ণকান্ত হালদার বলে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। গত শুক্রবার থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন বলে পরিবারের দাবি। এই মৃত্যুর সঙ্গে নাবালিকার মৃত্যুর কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী দল।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার বিকেলে বারুইপুরের ওই পুকুরে তল্লাশি অভিযান চলাকালীন কৃষ্ণকান্ত হালদারের দেহ উদ্ধার হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য দেহ পাঠানো হয়েছে। পুলিশ মৃতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং মৃত্যুর কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, নাবালিকার দেহ উদ্ধারের সময় কয়েক জন স্থানীয় যুবকের সঙ্গে এক প্রত্যক্ষদর্শীও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। সেই ঘটনার পর থেকেই এলাকায় নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তবে এই দুই ঘটনার মধ্যে কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিতভাবে কিছু জানায়নি পুলিশ। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও সম্ভাবনাই উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না বলে তদন্তকারী সূত্রের বক্তব্য।
এদিকে নাবালিকার পরিবারের অভিযোগ, তাঁকে ধর্ষণের পর খুন করা হয়েছে। পরিবারের দাবি, দেহ একটি বস্তার মধ্যে ভরে পুকুরের জলে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা এখনও তদন্তাধীন। ময়নাতদন্ত, ফরেন্সিক পরীক্ষা এবং অন্যান্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ভিত্তিতেই তদন্ত এগোচ্ছে।
নাবালিকার মৃত্যুর ঘটনায় রবিবার বারুইপুরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। বিক্ষোভ চলাকালীন এক ব্যক্তির গণপিটুনিতে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটে। পাশাপাশি সড়ক ও রেল অবরোধের জেরে দীর্ঘ সময় যান ও ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের ঘটনাও সামনে আসে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে লাঠিচার্জ করতে হয় বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।
এই মামলায় ইতিমধ্যেই গণধর্ষণ এবং খুনের মামলা রুজু করেছে পুলিশ। খুনের ধারার পাশাপাশি গণধর্ষণের ধারাও যুক্ত করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত তিন জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে দু’জনকে বারুইপুর আদালতে হাজির করা হলে আদালত ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। আগামী ২০ জুলাই তাঁদের ফের আদালতে তোলা হবে। তৃতীয় ধৃতকে মঙ্গলবার আদালতে পেশ করার কথা রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, নাবালিকার মৃত্যু এবং কৃষ্ণকান্ত হালদারের মৃত্যুর ঘটনাসহ প্রতিটি দিক গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট, ফরেন্সিক পরীক্ষার ফল, প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান এবং অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।
previous post
