29.7 C
Kolkata
June 20, 2026
রাজ্য

এসআইআর: তথ্যগত অসঙ্গতির তালিকা প্রকাশ্যে টাঙানোর নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া (Special Intensive Revision – SIR) নিয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। তথ্যগত অসঙ্গতি বা লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি থাকা ভোটারদের পূর্ণ তালিকা প্রকাশ্যে টাঙিয়ে দিতে হবে, এমনটাই নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। পাশাপাশি, শুনানির সময় ভোটারদের কাছ থেকে কোনও নথি গ্রহণ করা হলে তার লিখিত রসিদ প্রদান বাধ্যতামূলক বলেও জানানো হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের তরফে আগেই জানানো হয়েছিল, তথ্যগত অসঙ্গতির কারণে প্রাথমিকভাবে প্রায় ১.৩৬ কোটি ভোটারকে চিহ্নিত করা হয়েছে। পরবর্তীতে সেই সংখ্যা কমে দাঁড়ায় প্রায় ৯৪ লক্ষে। এই তালিকার ভিত্তিতেই ভোটারদের শুনানির নোটিস পাঠানো হচ্ছিল, যা নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসসহ একাধিক রাজনৈতিক দল আপত্তি তোলে। কোন যুক্তিতে এত সংখ্যক ভোটারকে শুনানির জন্য ডাকা হচ্ছে, সেই প্রশ্ন তুলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তথ্যগত অসঙ্গতির তালিকা প্রকাশ্যে আনার দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করে তৃণমূল।

সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী-র বেঞ্চে মামলার শুনানি হয়। শুনানি শেষে আদালত নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দেয়, রাজ্যের সমস্ত গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয়, ব্লক অফিস ও ওয়ার্ড অফিসে তথ্যগত অসঙ্গতির তালিকা প্রকাশ্যে টাঙাতে হবে। প্রতিটি ব্লক অফিসে আলাদা কাউন্টার খুলে ভোটারদের নথি জমা নেওয়া ও আপত্তি জানানোর ব্যবস্থা করতে হবে।

আদালত আরও জানিয়েছে, শুনানির সময় নথি গ্রহণ করলে সংশ্লিষ্ট ভোটারকে লিখিতভাবে রসিদ দিতে হবে এবং নথি গ্রহণের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করতে হবে। পাশাপাশি, প্রতিটি শুনানিকেন্দ্রে রাজনৈতিক দলের বুথ লেভেল এজেন্ট (BLA)-দের উপস্থিত থাকার দাবিও মেনে নিয়েছে আদালত।

শীর্ষ আদালত রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে, এসআইআর প্রক্রিয়ার জন্য পর্যাপ্ত কর্মী ও পুলিশ মোতায়েন করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। পঞ্চায়েত ভবন ও ব্লক অফিসে বসেই কর্মীরা ভোটারদের বক্তব্য শুনবেন। জেলা শাসকদের এই নির্দেশ কঠোরভাবে মানার কথাও বলা হয়েছে।

এছাড়া, কোনও ভোটার চাইলে তাঁর হয়ে প্রতিনিধি মারফত নথি জমা দিতে পারবেন। সেই প্রতিনিধি হতে পারেন পরিবারের সদস্য, কোনও দলের বিএলএ বা ভোটার কর্তৃক অনুমোদিত অন্য কেউ। তবে প্রতিনিধির কাছে সংশ্লিষ্ট ভোটারের স্বাক্ষর বা আঙুলের ছাপ-সহ লিখিত অনুমতিপত্র থাকা বাধ্যতামূলক।

সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশন ও বিজেপিকে কটাক্ষ করেছেন। বারাসতের এক জনসভা থেকে তিনি বলেন, “বিজেপির এসআইআর খেলা শেষ। সুপ্রিম কোর্ট তৃণমূলের দাবি মেনে নিয়েছে। তথ্যগত অসঙ্গতির তালিকা প্রকাশ্যে আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং এজেন্টদের শুনানিকেন্দ্রে থাকার অনুমতিও মিলেছে। লক্ষ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।”

Related posts

Leave a Comment