July 31, 2026
রাজ্য

প্রায় ১৯ বছর পর কলকাতায় ফিরলেন তসলিমা নাসরিন, সফরকে বললেন ‘ঘরে ফেরা’

কলকাতা — দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর ৮ মাস ১০ দিন পর ফের কলকাতায় পা রাখলেন বাংলাদেশের নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। শুক্রবার দুপুরে দিল্লি থেকে কলকাতা বিমানবন্দরে পৌঁছন তিনি। প্রায় দু’দশক পর তিলোত্তমায় ফিরে এসে এই সফরকে ‘ঘরে ফেরা’ বলেই অভিহিত করেছেন বিতর্কিত এই লেখিকা। ২০০৭ সালের নভেম্বরের পর এই প্রথম কলকাতায় এলেন তিনি।

কলকাতায় ফেরার আগে সকালেই সমাজমাধ্যমে একটি ছবি পোস্ট করেন তসলিমা। সেখানে লাল পাড় সাদা শাড়ি ও কপালে লাল টিপ পরা ছবির সঙ্গে তিনি লেখেন, ‘আজি এ প্রভাতে কলিকাতা অভিমুখে যাত্রা করিলাম।’ কলকাতা বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের উদ্দেশে করজোড়ে অভিবাদন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনাদের সবাইকে দেখে খুবই ভালো লাগছে। সবাইকে ধন্যবাদ।’

জানা গিয়েছে, একটি সাহিত্যভিত্তিক অনুষ্ঠানে অংশ নিতেই তাঁর এই কলকাতা সফর। ‘সেক্যুলার মিশন’ এবং ‘হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড বাংলাদেশ ফ্রিডম ফাইটার্স ফাউন্ডেশন’-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে এবং মুক্তচিন্তার সমর্থনে একটি সম্মেলনে তিনি যোগ দেবেন। শনিবার কলকাতার রবীন্দ্র সদনে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার কথা রয়েছে তাঁর।

প্রসঙ্গত, ২০০৭ সালে তাঁর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘দ্বিখণ্ডিত’ এবং অন্যান্য লেখাকে ঘিরে কলকাতায় ব্যাপক বিতর্ক ও বিক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। সেই সময় নিরাপত্তাজনিত কারণে তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকারের আমলে তাঁকে কলকাতা ছাড়তে হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ সময় তিনি দিল্লিতে বসবাস করেছেন।

প্রায় ১৯ বছর পর তাঁর কলকাতা সফর ইতিমধ্যেই সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। জানা গিয়েছে, শনিবারের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং প্রবীণ সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ও উপস্থিত থাকতে পারেন।

কলকাতায় আসার আগে সংবাদসংস্থা পিটিআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তসলিমা নাসরিন বলেন, কলকাতায় ফিরে আসা তাঁর কাছে ‘নিজের দেশে’ ফিরে আসার মতো অনুভূতি। তাঁর কথায়, ‘আনন্দ ও বেদনা— দুই অনুভূতি নিয়েই ফিরলাম।’ তিনি বলেন, কলকাতা তাঁকে একসময় ঘর, বন্ধু, পাঠক এবং আপন করে নেওয়ার অনুভূতি দিয়েছিল। তাই এই শহরে ফেরা তাঁর কাছে অত্যন্ত আবেগের।

ই সফরকে শুধু ব্যক্তিগত প্রত্যাবর্তন হিসেবে নয়, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবেও তুলে ধরেছেন তসলিমা। তাঁর বক্তব্য, ‘এটি এমন এক কণ্ঠস্বরের ফিরে আসার প্রতীক, যাকে একসময় মৌলবাদীরা স্তব্ধ করে দিতে চেয়েছিল।’ পাশাপাশি তিনি বলেন, যে কোনও সরকারের আদর্শ যাই হোক না কেন, একজন লেখকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সব সময় মৌলিক অধিকার হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত।

Related posts

Leave a Comment