July 31, 2026
দেশ

সংসদ অভিযান ঘিরে বিতর্কের মাঝে আহত পুলিশকর্মীদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরলেন পরিবারের সদস্যরা

নয়াদিল্লি — টেট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে সংসদ অভিযানের ঘটনাকে ঘিরে পুলিশি পদক্ষেপ এবং আন্দোলনকারীদের উপর বলপ্রয়োগের অভিযোগ নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক চলছে। এরই মধ্যে অভিযানে আহত দিল্লি পুলিশের কয়েকজন কর্মীর পরিবারের সদস্যরা তাঁদের অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ্যে এনেছেন। তাঁদের দাবি, কর্তব্য পালন করতে গিয়ে একাধিক পুলিশকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন এবং অনেকেই রক্তাক্ত অবস্থায় বাড়ি ফিরেছেন।

দিল্লি পুলিশের এক সাব-ইন্সপেক্টরের ছেলে, যিনি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, দাবি করেন যে তাঁর বাবা আন্দোলনস্থলে দায়িত্বে ছিলেন। তাঁর কথায়, বাড়ি ফিরে বাবা জানিয়েছিলেন, পরিস্থিতি সাধারণ ছাত্র বিক্ষোভের মতো ছিল না। তাঁর অভিযোগ, সেখানে অন্য ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন এবং পরের দিন তাঁর বাবা হামলার মুখে পড়েন। পরিবারের দাবি, গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। পরে সহকর্মীদের সাহায্যে তিনি বাড়ি ফেরেন। তাঁর পোশাক রক্তে ভেজা ছিল এবং মাথায় একাধিক সেলাই পড়েছিল বলেও পরিবারের দাবি।

আহত আর এক অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইন্সপেক্টরের স্ত্রী সীমা জানান, প্রতিদিনের মতোই তাঁর স্বামী দায়িত্ব পালনে বেরিয়েছিলেন। পরে খবর আসে, তিনি হাসপাতালে ভর্তি। তাঁর অভিযোগ, আন্দোলনস্থল থেকে ছোড়া বিভিন্ন বস্তুতে পুলিশকর্মীরা আহত হন। তিনি আরও দাবি করেন, স্বামীর নিরাপত্তার জন্য দেওয়া হেলমেট পর্যাপ্ত সুরক্ষা দিতে সক্ষম ছিল না। তাঁর কথায়, ‘পুলিশের উর্দির পিছনেও একজন মানুষ থাকে। তাঁরও একটি পরিবার রয়েছে, যারা প্রতিদিন তাঁর নিরাপদে ফিরে আসার অপেক্ষা করে।’

প্রসঙ্গত, সংসদ অভিযানের সময় আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ এবং কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ ওঠে। আন্দোলনকারীদের একাংশের অভিযোগ, মহিলা বিক্ষোভকারীদের উপর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করা হয়েছে। কিছু আইনজীবীও পুলিশি আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। যদিও এই অভিযোগগুলির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তরফে তদন্ত বা আনুষ্ঠানিক অবস্থান সামনে আসার অপেক্ষা রয়েছে।

অন্যদিকে, আহত পুলিশকর্মীদের পরিবারের দাবি, ঘটনাটিকে একপাক্ষিকভাবে দেখা হচ্ছে। তাঁদের মতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করতে গিয়েই পুলিশকর্মীরা হামলার মুখে পড়েছেন। তাই আন্দোলনের ঘটনাপ্রবাহ মূল্যায়নের সময় পুলিশকর্মীদের নিরাপত্তা ও তাঁদের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টিও সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।

Related posts

Leave a Comment