পশ্চিমবঙ্গে ‘দুয়ারে রেশন’ প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। প্রকল্পটির প্রয়োজনীয়তা, বাস্তবায়ন এবং কার্যকারিতা নিয়ে রাজ্যের সমস্ত বিধায়কের মতামত চাইলেন খাদ্য ও সরবরাহ দফতরের মন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়া। গত ১১ অগস্ট বিধায়কদের চিঠি দিয়ে এ বিষয়ে মতামত জানানোর আবেদন করেছেন তিনি।
খাদ্যমন্ত্রীর চিঠিতে বলা হয়েছে, উপভোক্তাদের বাড়ির দরজায় খাদ্যশস্য পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে আগের সরকারের আমলে ‘দুয়ারে রেশন’ প্রকল্প চালু করা হয়েছিল। তবে বর্তমানে প্রকল্পটির প্রয়োজনীয়তা ও বাস্তবায়ন নিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে একাধিক অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। তাই প্রকল্পটির কার্যকারিতা এবং সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণে এটি কতটা উপযোগী, তা নিয়ে সামগ্রিক মূল্যায়ন প্রয়োজন।

বিধায়কদের কাছে মূলত দুটি বিষয়ে মতামত চাওয়া হয়েছে। প্রথমত, ‘দুয়ারে রেশন’-এর মাধ্যমে উপভোক্তারা বাস্তবে কতটা উপকৃত হচ্ছেন। দ্বিতীয়ত, দুর্নীতিমুক্ত পশ্চিমবঙ্গ গঠনের লক্ষ্যে এই প্রকল্প চালিয়ে যাওয়া আদৌ সমীচীন হবে কি না।
খাদ্য দফতরের দাবি, বিধায়কদের মতামত প্রকল্পটির নিরপেক্ষ মূল্যায়নের পাশাপাশি ভবিষ্যতে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণেও সাহায্য করবে।
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালে তৃতীয় বার ক্ষমতায় ফিরে ‘দুয়ারে রেশন’ প্রকল্প চালু করেছিল তৎকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। শুরু থেকেই প্রকল্পটি নিয়ে রেশন ডিলারদের একাংশের আপত্তি ছিল। সরকারি নির্দেশ মেনে শেষ পর্যন্ত তাঁরা প্রকল্পের কাজ শুরু করেন।
২০২৬ সালে রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর খাদ্য দফতরের দায়িত্ব পেয়েছেন বনগাঁ উত্তরের বিজেপি বিধায়ক অশোক কীর্তনীয়া। তাঁর এই উদ্যোগের পরই জল্পনা তৈরি হয়েছে, পুজোর আগেই ‘দুয়ারে রেশন’ প্রকল্প নিয়ে বড় কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারে রাজ্য সরকার।

অন্য দিকে, দীর্ঘদিন ধরেই প্রকল্পটির বিরোধিতা করে আসছেন রেশন ডিলারদের একাংশ। অল ইন্ডিয়া ফেয়ার প্রাইস শপ ডিলার্স ফেডারেশনের তরফে বিশ্বম্ভর বসু জানিয়েছেন, গত ১৪ জুলাই খাদ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁদের বৈঠক হয়েছিল। তার দু’দিন পরে, ১৬ জুলাই সংগঠনের তরফে ‘দুয়ারে রেশন’ প্রকল্পের বিরোধিতা করে লিখিত প্রস্তাব দেওয়া হয়।
খাদ্যমন্ত্রী এ বার বিধায়কদের মতামত চাওয়ায় রেশন ডিলারদের সংগঠন বিষয়টিকে আশাব্যঞ্জক পদক্ষেপ বলেই মনে করছে।
