July 29, 2026
কলকাতা

পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডির জেরার মুখে মদন মিত্র

১৬৮ নিয়োগের তালিকা দেখিয়ে টানা প্রশ্ন, জমা দিলেন নথি ও ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত তথ্য

সংবাদ কলকাতা: পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে বুধবার তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক মদন মিত্রকে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। বিধাননগরের সিজিও কমপ্লেক্সে ইডি দপ্তরে হাজির হয়ে তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি। তদন্তকারী সংস্থার সূত্রে জানা গিয়েছে, টিটাগড় পুরসভার নিয়োগ সংক্রান্ত একাধিক নথি, ব্যাঙ্ক লেনদেন এবং সম্ভাব্য আর্থিক অনিয়ম নিয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছে।

এর আগে একই মামলায় মদন মিত্রের স্ত্রী এবং দুই পুত্রকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল ইডি। সেই তদন্তের সূত্র ধরেই এ দিন তাঁকে সিজিও কমপ্লেক্সে তলব করা হয়। দপ্তরে প্রবেশের আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মদন মিত্র বলেন, ‘আমি যা বলার ইডি-কেই বলব। তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করব। যে নথি আনতে বলা হয়েছে, সব এনেছি। আমি কোনও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নই।’

তদন্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, টিটাগড় পুরসভার নিয়োগ সংক্রান্ত ১৬৮ জনের একটি তালিকা মদন মিত্রকে দেখানো হয়। ওই তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের তিনি চেনেন কি না এবং তাঁদের নিয়োগের বিষয়ে তাঁর কোনও ভূমিকা ছিল কি না, তা জানতে চাওয়া হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, আর্থিক লেনদেন এবং জমা দেওয়া নথিপত্র নিয়েও তাঁকে বিস্তারিত প্রশ্ন করা হয়। রাত পর্যন্ত ইডির জিজ্ঞাসাবাদ চলেছে বলে জানা গিয়েছে।

এর আগে জুন মাসে এই মামলার তদন্তে মদন মিত্রের ভবানীপুর, দক্ষিণেশ্বর-সহ একাধিক ঠিকানায় তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, সেই অভিযানে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার হয়েছিল। সেই নথির ভিত্তিতেই এ দিনের জিজ্ঞাসাবাদকে তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইডি সূত্রের দাবি, কামারহাটি এবং টিটাগড় পুরসভায় গ্রুপ-সি ও গ্রুপ-ডি পদে নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে কিছু প্রার্থীর কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়েছিল এবং সেই অর্থের একটি অংশ বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়। এই আর্থিক লেনদেন, নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়েই তদন্ত এগোচ্ছে।

তবে এই মামলার তদন্ত এখনও চলছে। অভিযোগগুলির সত্যতা এবং দায়-দায়িত্বের প্রশ্নে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।

Related posts

Leave a Comment