কলকাতা: অ্যালজাইমার্সে আক্রান্ত এক বৃদ্ধাকে ঘরবন্দি করে রেখে তাঁর সম্পত্তি ও গয়না আত্মসাতের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তিন ছেলের বিরুদ্ধে এমনই গুরুতর অভিযোগ তুলে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন পরিবারের এক সদস্য। মামলার শুনানিতে বৃদ্ধার স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ভূপতিনগর থানাকে দু’সপ্তাহের মধ্যে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
বুধবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে মামলার শুনানি হয়। মামলাকারী সমীর মাইতির আইনজীবীর দাবি, অ্যালজাইমার্সে আক্রান্ত বৃদ্ধা সন্ধ্যারানি মাইতির সঠিক চিকিৎসা করা হচ্ছে না। তাঁকে বাড়িতে কার্যত বন্দি করে রাখা হয়েছে এবং বিভিন্নভাবে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হচ্ছে। আদালতের হস্তক্ষেপও চাওয়া হয়।
মামলাকারীর দাবি, ২০১৮ সালে তাঁর বাবার মৃত্যুর আগে পরিবারের সমস্ত সম্পত্তি দানপত্র করে দেওয়া হয়। এরপর থেকেই সন্ধ্যারানি মাইতি অ্যালজাইমার্সে আক্রান্ত হন। সম্প্রতি একটি পথ দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর তাঁর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়। অভিযোগ, এই সুযোগে তিন ছেলে জোর করে জমির নথি ও সোনার গয়না নিজেদের দখলে নেন। প্রতিবাদ করলে বৃদ্ধাকে মারধর ও লাঠি-রড দেখিয়ে ভয় দেখানোর অভিযোগও করা হয়েছে।
সমীর মাইতির আরও অভিযোগ, গত ১৮ মে বাড়ির নির্মাণকাজ নিয়ে বিবাদের সময় তাঁর মাকে হুমকি দেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে থানায় এবং পুলিশ সুপারের কাছেও অভিযোগ জানানো হলেও কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এরপরই তিনি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন।
শুনানিতে রাজ্যের আইনজীবী জানান, বিষয়টি মূলত পারিবারিক সম্পত্তি সংক্রান্ত বিবাদ। তবে সেই যুক্তি খারিজ করে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য স্পষ্ট বলেন, “সম্পত্তির বিষয় পরে দেখা যাবে, আগে মায়ের স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।”
এরপর আদালত ভূপতিনগর থানাকে নির্দেশ দেয়, অসুস্থ বৃদ্ধার বর্তমান স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও চিকিৎসার অবস্থা খতিয়ে দেখে দু’সপ্তাহের মধ্যে আদালতে রিপোর্ট জমা দিতে হবে।
