কলকাতা—ডিজে’ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া মামলায় তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফের তলব করল বিধাননগর আদালত। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ৮ জুলাই সকাল ১০টায় বিধাননগর আদালতে হাজির হয়ে তাঁকে কণ্ঠস্বরের নমুনা দিতে হবে। ম্যাজিস্ট্রেট এবং ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞের উপস্থিতিতেই সেই নমুনা সংগ্রহ করা হবে।
এর আগে গত ১ জুলাই একই উদ্দেশ্যে অভিষেককে আদালতে হাজির থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই অনুযায়ী তদন্তকারী আধিকারিক ও ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা প্রস্তুত থাকলেও তিনি আদালতে যাননি। একই দিনে কলকাতা হাই কোর্টে এই মামলার শুনানি চলছিল।
মামলার সূত্রে জানা গিয়েছে, বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারের সময় একাধিক জনসভায় ‘ডিজে বাজবে’ মন্তব্য করেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরও তিনি একই ধরনের মন্তব্য করেন। ওই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তাঁর বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক মন্তব্য করার অভিযোগ ওঠে। প্রথমে বিধাননগর থানায় অভিযোগ দায়ের হয়। পরে মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে অপরাধ তদন্ত দপ্তর।
তদন্তের স্বার্থে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহের জন্য আদালতের অনুমতি চায় তদন্তকারী সংস্থা। বিধাননগর আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করে। তবে এই নির্দেশের বিরোধিতা করে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন অভিষেক।
সাংসদের দাবি, সংশ্লিষ্ট বক্তব্য তাঁরই এবং তিনি কখনও তা অস্বীকার করেননি। ফলে কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। এই বিষয়টি উল্লেখ করেই আদালতের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মামলা দায়ের করা হয়।
মঙ্গলবার হাই কোর্টে শুনানির সময় বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ পর্যবেক্ষণে বলেন, তদন্তের স্বার্থে কোন পদক্ষেপ প্রয়োজন, তা নির্ধারণের দায়িত্ব তদন্তকারী সংস্থার। আদালত সেই বিষয়ে তদন্তকারীদের নির্দেশ দিতে পারে না। তবে মামলার শুনানির মাঝপথেই তিনি নিজেকে ওই মামলার শুনানি থেকে সরিয়ে নেন।
এরপর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবীরা দ্রুত শুনানির আবেদন জানিয়ে প্রধান বিচারপতির দপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছেন। নতুন কোনও বিচারপতির এজলাসে মামলাটি দ্রুত তালিকাভুক্ত করার আবেদনও করা হয়েছে।
এদিকে, হাই কোর্টে তাৎক্ষণিক কোনও স্থগিতাদেশ না থাকায় বিধাননগর আদালত ফের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আগামী ৮ জুলাই হাজির হয়ে কণ্ঠস্বরের নমুনা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এখন তিনি আদালতের নির্দেশ মেনে হাজির হন কি না, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহল এবং তদন্তকারী সংস্থার।
