কলকাতা, ২৬ জুন: শহরে বড় ধরনের দুর্ঘটনা, প্রাকৃতিক বিপর্যয় বা আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনায় স্থানীয় থানার সঙ্গে লালবাজার ও ডিভিশনাল কন্ট্রোল রুমের সমন্বয়ের ঘাটতি দূর করতে কড়া পদক্ষেপ নিল কলকাতা পুলিশ। পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ চার দফা নির্দেশিকা জারি করে জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে কোনওরকম তথ্য গোপন বা যোগাযোগে বিলম্ব বরদাস্ত করা হবে না। অবিলম্বে নতুন নির্দেশ কার্যকর করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
লালবাজার সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি একাধিক বড় ঘটনার সময় সংশ্লিষ্ট থানাগুলির সঙ্গে লালবাজার এবং ডিভিশনাল কন্ট্রোল রুমের যোগাযোগে ঘাটতি ধরা পড়েছে। এর ফলে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপে বিলম্বের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সেই কারণেই নতুন নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, বড় কোনও দুর্ঘটনা, প্রাকৃতিক বিপর্যয় কিংবা আইনশৃঙ্খলার উপর প্রভাব ফেলতে পারে এমন ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট থানার অফিসার-ইন-চার্জকে কোনও সময় নষ্ট না করে সঙ্গে সঙ্গে লালবাজার কন্ট্রোল রুম এবং সংশ্লিষ্ট ডিভিশনাল কন্ট্রোল রুমকে বিস্তারিত জানাতে হবে।
নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, স্থানীয় থানার কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার পর লালবাজার কন্ট্রোল রুম অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট সমস্ত শীর্ষ পুলিশ আধিকারিকের কাছে ঘটনার রিপোর্ট পাঠাবে। তাঁরা কর্তব্যরত থাকুন বা ছুটিতে থাকুন, প্রত্যেকের কাছেই দ্রুত সেই তথ্য পৌঁছে দিতে হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থা ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষকেও বিষয়টি জানানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
এছাড়া স্থানীয় থানার রিপোর্ট পাওয়ার পর ডিভিশনাল কন্ট্রোল রুমকে সংশ্লিষ্ট ডেপুটি কমিশনারের কাছে ঘটনার বিস্তারিত রিপোর্ট পাঠাতে হবে এবং পরিস্থিতির অগ্রগতির প্রতিটি আপডেট ধারাবাহিকভাবে জানাতে হবে। পুলিশ কমিশনার স্পষ্ট করে দিয়েছেন, জরুরি পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট সব আধিকারিককে পারস্পরিক যোগাযোগ বজায় রেখে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। এই নির্দেশ অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
সম্প্রতি তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদামের ছাদ ভেঙে ১১ জনের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে উদ্ধারকাজে কলকাতা পুলিশ, দমকল, ভারতীয় সেনা এবং জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী যৌথভাবে কাজ করেছে। ওই ঘটনায় ইতিমধ্যেই পাঁচ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং আদালত তাঁদের ৪ জুলাই পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। সেই ঘটনার পরই কলকাতা পুলিশের এই নতুন নির্দেশিকা জারি হওয়ায় ভবিষ্যতে বড় ধরনের বিপর্যয় মোকাবিলায় আরও দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপ নিশ্চিত করাই প্রশাসনের লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে।
