31.7 C
Kolkata
August 9, 2026
কলকাতা

ছোট পুজোয় অনুদানের ভাবনা, দুর্গাপুজোর আগে নবান্নের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় কলকাতা

কলকাতা— অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহেই বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপুজো। মে মাসে নতুন সরকার গঠনের পর এ বারই প্রথম শারদোৎসবের মুখোমুখি রাজ্য। আর তার আগেই কলকাতার দুর্গাপুজো কমিটিগুলির জন্য সরকারি অনুদান নিয়ে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। আগের সরকারের মতো রাজ্যের সব দুর্গাপুজো কমিটিকে আর্থিক অনুদান দেওয়া হবে না বলে ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রয়োজন রয়েছে এমন পুজো কমিটিগুলিকে বেছে নিয়ে অনুদান দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার।

নবান্ন সূত্রে খবর, ১০ লক্ষ টাকার নীচে বাজেট রয়েছে এমন পুজো কমিটিগুলিকে আর্থিক সাহায্য দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে ভাবনাচিন্তা চলছে। তবে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। অর্থ দফতরের সঙ্গে আলোচনা করেই এই বিষয়ে শেষ সিদ্ধান্ত নিতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী। ফলে দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেলেও ছোট পুজো কমিটিগুলির মধ্যে সরকারি অনুদান নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি।

গত বছর পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার রাজ্যের পুলিশ অনুমোদিত সব দুর্গাপুজো কমিটিকে ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা করে অনুদান দিত। করোনা সংক্রমণের সময় আর্থিক সঙ্কটে থাকা পুজো কমিটিগুলিকে সাহায্য করতে ২০২০ সালে প্রথম বার ৫০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। পরবর্তী কয়েক বছরে সেই অর্থের পরিমাণ ধাপে ধাপে বেড়ে ২০২৫ সালে ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকায় পৌঁছয়।

কিন্তু সরকার বদলের পর সেই নীতিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন শুভেন্দু। তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকার সব পুজো কমিটিকে একসঙ্গে অনুদান না দিয়ে প্রয়োজনের ভিত্তিতে কমিটিগুলিকে বেছে নেওয়ার কথা জানিয়েছে। ফলে বড় বাজেটের পুজো এবং ছোট পুজোর মধ্যে সরকারি সাহায্য পাওয়ার ক্ষেত্রে নতুন বিভাজন তৈরি হতে পারে।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই বুধবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন কলকাতার দুর্গাপুজো কমিটিগুলির সম্মিলিত সংগঠন ‘ফোরাম ফর দুর্গোৎসব’-এর দুই কর্তা। বালিগঞ্জ কালচারালের অন্যতম কর্তা অঞ্জন উকিল এবং বেহালা নূতন দলের কর্মকর্তা সন্দীপন বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন। বৈঠকে কলকাতার শারদোৎসব পরিচালনা, সরকারি অনুদান এবং পুজোর সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ-ও ছিলেন বলে সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে।

বৈঠকের পরে অঞ্জন উকিল ফোরামের সদস্যদের জন্য একটি বার্তা দেন। সেখানে তিনি জানান, বড় রাস্তা ও গলির পুজো, বিদ্যুতের ছাড়, হোর্ডিং ও ব্যানারের উপর পুরকর ছাড় এবং পুজোর অনুদান-সহ একাধিক বিষয় নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দফতরগুলির সঙ্গে আলোচনা করে চলতি মাসেই একটি বৈঠকের মাধ্যমে সরকারের সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন।

ফোরামের তরফে মুখ্যমন্ত্রীর মনোভাবকে ইতিবাচক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পুজো কমিটিগুলিকে শহরবাসীর জন্য সুন্দর উৎসবের আয়োজনের কাজে নেমে পড়ার বার্তাও দেওয়া হয়েছে বলে সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে। বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী এবং ক্রীড়া মন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছে ফোরাম।

এই বার্তা কলকাতার বিভিন্ন পুজো কমিটির মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার পর ছোট পুজোগুলির মধ্যে নতুন করে আশার সৃষ্টি হয়েছে। অনেক কমিটি মনে করছে, ১০ লক্ষ টাকার নীচে বাজেটের পুজোর জন্য যদি অনুদান চালু হয়, তা হলে তাঁদের প্রস্তুতির ক্ষেত্রে বড় সুবিধা হবে।

সরকারের সিদ্ধান্ত স্পষ্ট না হওয়ায় অবশ্য এখনও বহু ছোট পুজো কমিটি নিজেদের চূড়ান্ত বাজেট তৈরি করতে পারেনি। খরচ কমানোর জন্য কোথাও থিম বদলানো হয়েছে, কোথাও আবার থিমশিল্পী পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পুজোর প্রস্তুতি যত এগোচ্ছে, ততই সরকারি অনুদানের বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত ঘোষণার দাবি জোরালো হচ্ছে।

উত্তর কলকাতার টালা প্রত্যয়ের অন্যতম কর্তা দেবাশিস সোম জানিয়েছেন, বড় পুজোর পরিবর্তে ছোট পুজো কমিটিগুলিকে অনুদান দেওয়ার সিদ্ধান্তকে তাঁরা স্বাগত জানাবেন। তাঁদের পুজো নতুন করে তৈরি হয়েছে এবং ক্লাবের কর্তাদের উদ্যোগে সংগৃহীত অর্থ দিয়েই পুজোর আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

দক্ষিণ কলকাতার বেহালা সাহাপুর সাংগঠনিক ক্লাবের অন্যতম সদস্য মৈনাক চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্য, তাঁদের পুজোর বাজেট ১০ লক্ষ টাকা তো নয়ই, পাঁচ লক্ষ টাকারও নীচে। সরকারি সাহায্য পেলে পুজোর আয়োজন আরও ভালো ভাবে করা সম্ভব হবে বলে তাঁর আশা। তাই সরকারের চূড়ান্ত ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছে ছোট পুজো কমিটিগুলি।

দুর্গাপুজো ঘিরে অনুদানের পাশাপাশি বিদ্যুতের ছাড় এবং পুরকর সংক্রান্ত সুবিধার বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা রয়েছে। ফলে চলতি মাসের বৈঠকটি কলকাতার পুজো কমিটিগুলির কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নতুন সরকারের প্রথম শারদোৎসবে সরকারি সাহায্যের কাঠামো শেষ পর্যন্ত কী হয়, এখন সেদিকেই নজর কলকাতার পুজো মহলের।

Related posts

Leave a Comment