কলকাতা, ২৬ জুন: তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদামের ছাদ ধসে পাঁচ শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তে বড় পদক্ষেপ করল পুলিশ। ঘটনার পর স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে তারাতলা থানার পুলিশ। ইতিমধ্যেই গুদামের সুপারভাইজার মহম্মদ গুলজ়ার-সহ তিনজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে। ধৃত অপর দুই ব্যক্তি মহম্মদ আতাউল ও সুভাষ চৌধুরী ওই নির্মাণস্থলে শ্রমিক সরবরাহের দায়িত্বে ছিলেন। নির্মাণকাজে নিরাপত্তা বিধি মানা হয়েছিল কি না, শ্রমিকদের কীভাবে কাজে নিয়োগ করা হয়েছিল এবং কোনও ধরনের গাফিলতির জেরেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে কি না, সেই সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
বুধবার দুপুর ১২টা ৭ মিনিট নাগাদ নির্মীয়মাণ গুদামটির লোহার কাঠামো-সহ ছাদ আচমকাই ভেঙে পড়ে। ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়েন অন্তত ৪০ জন শ্রমিক। ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বর্তমানে এসএসকেএম হাসপাতালে ২০ জন আহত শ্রমিক চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যাঁদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এদিকে ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ এখনও শেষ হয়নি। প্রশাসনের আশঙ্কা, ধ্বংসস্তূপের নীচে আরও কয়েকজন শ্রমিক আটকে থাকতে পারেন। রাজ্য সরকারের অনুরোধে উদ্ধারকাজে নেমেছে ভারতীয় সেনা। পাশাপাশি এনডিআরএফ, কলকাতা পুলিশ এবং দমকল বাহিনী যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে।
প্রাথমিক তদন্তে গুদামের নির্মাণ-নকশায় ত্রুটির ইঙ্গিত মিলেছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, কলকাতা পুরসভা চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি ওই নির্মাণের নকশায় অনুমোদন দিয়েছিল। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে নির্মাণ সংক্রান্ত সমস্ত নথি, অনুমোদন প্রক্রিয়া এবং নির্মাণের গুণগত মান খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে।
