পুদুচেরি— কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ রবিবার জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের তিন নতুন ফৌজদারি আইনের মূল ভিত্তি হল প্রযুক্তি, নির্দিষ্ট সময়সীমা এবং মানুষের আস্থা। তাঁর দাবি, নতুন আইনি কাঠামোর মাধ্যমে দেশের বিচারব্যবস্থাকে আরও দ্রুত, কার্যকর ও স্বচ্ছ করে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
পুদুচেরির গোড়িমেডুর পুলিশ প্রশিক্ষণ স্কুলের মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পুদুচেরি পুলিশকে রাষ্ট্রপতির পুলিশ পতাকা তুলে দেওয়ার পর বক্তব্য রাখছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সেখানেই নতুন ফৌজদারি আইন নিয়ে কেন্দ্রের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন তিনি।
অমিত শাহ বলেন, নতুন আইনের মাধ্যমে ঔপনিবেশিক আমলের ফৌজদারি বিচারব্যবস্থা থেকে দেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের পথে এগিয়েছে। তদন্ত এবং বিচারপ্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা রাখা এবং প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ফলে বিচারপ্রক্রিয়া আরও কার্যকর হবে বলে তিনি দাবি করেন।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অপরাধের তদন্ত থেকে শুরু করে আদালতে বিচার পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হলে কাজের গতি বাড়বে। একই সঙ্গে কোন কাজ কত সময়ের মধ্যে শেষ করতে হবে, তার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকলে দীর্ঘসূত্রিতা কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।
তবে শুধু প্রযুক্তি ও সময়সীমা দিয়ে বিচারব্যবস্থার সংস্কার সম্ভব নয় বলেও গুরুত্ব দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর মতে, বিচার পাওয়ার ব্যবস্থার উপর সাধারণ মানুষের আস্থা তৈরি করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। নাগরিকরা যাতে দ্রুত এবং কার্যকর ভাবে বিচার পাওয়ার বিষয়ে বিশ্বাস রাখতে পারেন, নতুন আইনি ব্যবস্থায় সেই পরিবেশ তৈরি করাই অন্যতম লক্ষ্য।
কেন্দ্রীয় সরকারের আনা তিনটি নতুন ফৌজদারি আইন হল ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা এবং ভারতীয় সাক্ষ্য অধিনিয়ম। এই তিন আইন যথাক্রমে ভারতীয় দণ্ডবিধি, ফৌজদারি কার্যবিধি এবং ভারতীয় সাক্ষ্য আইনকে প্রতিস্থাপন করেছে।
নতুন আইনগুলির মাধ্যমে দেশের অপরাধ ও বিচারব্যবস্থাকে সময়ের সঙ্গে আরও উপযোগী করার দাবি করে আসছে কেন্দ্রীয় সরকার। অমিত শাহের বক্তব্যেও সেই অবস্থানই ফের স্পষ্ট হয়েছে। তাঁর মতে, প্রযুক্তির ব্যবহার, নির্দিষ্ট সময়সীমা এবং মানুষের আস্থা— এই তিনটি বিষয়কে একসঙ্গে এগিয়ে নিয়ে গেলে বিচারপ্রক্রিয়ার কার্যকারিতা বাড়ানো সম্ভব।
অনুষ্ঠানে পুদুচেরি পুলিশকে রাষ্ট্রপতির পুলিশ পতাকা পাওয়ার জন্য অভিনন্দন জানান অমিত শাহ। তিনি বলেন, কোনও সুশৃঙ্খল পুলিশ বাহিনীর ইতিহাসে রাষ্ট্রপতির পুলিশ পতাকা পাওয়া অত্যন্ত গর্বের মুহূর্ত।

দুচেরি পুলিশের সামনে যে দায়িত্ব রয়েছে, তার কথাও তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ও তার বাসিন্দাদের সুরক্ষা দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে পুদুচেরি পুলিশ।
বিশেষ তাৎপর্যের বিষয় হল, পাঁচ হাজারেরও কম সদস্য নিয়ে পুদুচেরি পুলিশ এই দায়িত্ব পালন করছে। সীমিত বাহিনী নিয়ে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র সামলানোর জন্য পুলিশকর্মীদের প্রশংসা করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

রাষ্ট্রপতির পুলিশ পতাকা একটি পুলিশ বাহিনীর দক্ষতা, শৃঙ্খলা এবং দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতি হিসেবে বিশেষ মর্যাদা বহন করে। পুদুচেরি পুলিশের এই সম্মানপ্রাপ্তির ফলে বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্ববোধ আরও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।
নতুন ফৌজদারি আইন নিয়ে অমিত শাহের বক্তব্য এবং পুদুচেরি পুলিশের রাষ্ট্রপতির পুলিশ পতাকা প্রাপ্তি— একই অনুষ্ঠানে কেন্দ্রের আইন ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত নীতির দুই গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে আনল। এক দিকে বিচারব্যবস্থায় প্রযুক্তি ও নির্দিষ্ট সময়সীমার উপর জোর, অন্য দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা ও দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতি— দুটিকেই দেশের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের বৃহত্তর ব্যবস্থার অংশ হিসেবে তুলে ধরেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
