কলকাতা, ৬ জুন ২০২৬: কলকাতার মেয়র পদ থেকে ইস্তফার পর নতুন করে প্রশাসনিক জটিলতার মুখে কলকাতা পুরসভা। মেয়রের পদত্যাগের প্রেক্ষিতে কেন কলকাতা পুরসভার বোর্ড ভেঙে দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিস জারি করেছে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর। নোটিস পাওয়ার তিন দিনের মধ্যে পুরসভাকে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে। নোটিসের অনুলিপি পুর কমিশনার, পুরসচিব এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি আধিকারিকদের কাছেও পাঠানো হয়েছে।
সরকারি নোটিসে উল্লেখ করা হয়েছে, মেয়রের পদত্যাগের ফলে পুরসভার স্বাভাবিক প্রশাসনিক কাজকর্ম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর জেরে নাগরিক পরিষেবা প্রদানে সমস্যা দেখা দিতে পারে বলেও সরকারের অভিমত। সেই কারণেই কলকাতা পুরসভার বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
শুক্রবার মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দেন ফিরহাদ হাকিম। তবে তাঁর পদত্যাগের পর এখনও নতুন মেয়র নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকার কলকাতা পুরসভা আইন, ১৯৮০-এর ১১৭(১) ধারার উল্লেখ করে জানিয়েছে, কোনও পুরসভা যদি দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়, ধারাবাহিকভাবে কর্তব্যে গাফিলতি করে অথবা ক্ষমতার অপব্যবহার করে, তাহলে নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সরকার সেই পুরসভাকে ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তবে আইন অনুযায়ী এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পুরসভাকে নিজেদের বক্তব্য জানানোর সুযোগ দিতে হয়।
নোটিসে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, ১১৭(২)(এ) ধারার অধীনে কারণ দর্শানোর সুযোগ হিসেবে তিন দিনের মধ্যে জবাব চাওয়া হয়েছে। সেই জবাব পাওয়ার পরই সরকার পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। অর্থাৎ, এই মুহূর্তে পুরসভা ভেঙে দেওয়ার কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
এদিকে প্রাক্তন মেয়র বিকাশ ভট্টাচার্য দাবি করেছেন, পুর বোর্ড ভেঙে দেওয়ার অধিকার রাজ্য সরকারের নেই। অন্যদিকে কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান সচ্চিদানন্দ বন্দ্যোপাধ্যায় মত প্রকাশ করেছেন যে, প্রয়োজনে প্রশাসক নিয়োগ করে পুরসভার কাজ চালানো যেতে পারে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি শেষ পর্যন্ত পুরসভা ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তাহলে কলকাতা পুরসভা আইনের ১১৮ ধারা অনুযায়ী মেয়র, কাউন্সিলর এবং মেয়র-ইন-কাউন্সিলের পদ শূন্য হয়ে যাবে। সেই ক্ষেত্রে সরকার নিযুক্ত প্রশাসক বা প্রশাসনিক কমিটি পুরসভার দায়িত্ব গ্রহণ করবে।
