33 C
Kolkata
May 25, 2026
দেশ

কর আদায়ে গতি আনতে যোগীর জোর ডিজিটাল ব্যবস্থায়, সৎ ব্যবসায়ীদের হয়রানি না করার নির্দেশ

লখনউ — উত্তরপ্রদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্যে রাজ্য কর দপ্তরের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করলেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। সোমবার রাজ্য কর দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সৎ ব্যবসায়ীদের সম্মান, দ্রুত পরিষেবা এবং স্বচ্ছ প্রশাসন নিশ্চিত করতে হবে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কর আদায়ের পাশাপাশি বিশ্বাসভিত্তিক প্রশাসনের মডেল তৈরি করতে হবে। কর ব্যবস্থাকে আরও সহজ, ডিজিটাল এবং জবাবদিহিমূলক করতে হবে।’

বৈঠকে যোগী নির্দেশ দেন, জিএসটি নথিভুক্তিকরণ, রিটার্ন জমা, আপিল নিষ্পত্তি এবং রিফান্ডের মতো বিষয়ে অযথা দেরি যেন না হয়। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা এবং ছোট ব্যবসায়ীদের সচেতন করতে জেলা ও ব্লক স্তরে সহায়ক কর্মসূচি চালানোর কথাও বলেন তিনি।

কর ফাঁকি রুখতে প্রযুক্তি এবং তথ্য বিশ্লেষণের উপর জোর দেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে বৈধ ব্যবসায়িক কার্যকলাপকে উৎসাহ দেওয়ার নির্দেশও দেন।

বৈঠকে জানানো হয়, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে উত্তরপ্রদেশে জিএসটি এবং ভ্যাট মিলিয়ে মোট ১ লক্ষ ১৫ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে, যা সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৯৮.৮ শতাংশ। জিএসটি আদায়ে দেশের মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে উত্তরপ্রদেশ। প্রথম স্থানে মহারাষ্ট্র এবং তৃতীয় স্থানে কর্নাটক।

রাজ্য কর দপ্তর জানিয়েছে, গত অর্থবর্ষে জিএসটি বকেয়া বাবদ ২ হাজার ৬৫৮ কোটি টাকা আদায় হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ২২৮ শতাংশ বেশি। ভ্যাট বকেয়া বাবদ আদায় হয়েছে ৮০০ কোটি টাকা। পাশাপাশি এনফোর্সমেন্ট ইউনিটের মাধ্যমে ২ হাজার ৭১ কোটি টাকা উদ্ধার হয়েছে।

২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে রাজ্য কর দপ্তরের মোট রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য রাখা হয়েছে ১ লক্ষ ৯৮ হাজার ৭১ কোটি টাকা। এর মধ্যে জিএসটি থেকে ১ লক্ষ ৪৯ হাজার ৯৫৬ কোটি এবং ভ্যাট থেকে ৪৮ হাজার ১১৫ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এপ্রিল মাসে উত্তরপ্রদেশে মোট ১০ হাজার ৮৯৬ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৯.৬ শতাংশ বেশি।

বৈঠকে আরও জানানো হয়, গৌতম বুদ্ধ নগর জোনে এপ্রিল মাসে ১৮ শতাংশ বৃদ্ধি হয়েছে। সাহারানপুর জোনে ৩৫.১ শতাংশ এবং বারাণসী প্রথম জোনে ৩৩.২ শতাংশ বৃদ্ধি রেকর্ড করা হয়েছে।

নকল সংস্থা এবং কর ফাঁকির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন যোগী। বৈঠকে জানানো হয়, ভুয়ো সংস্থার বিরুদ্ধে ৪৭৭টি ক্ষেত্রে এফআইআর দায়ের হয়েছে এবং ১৬৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিট বাবদ ১৮০ কোটি টাকা আটকে দেওয়া হয়েছে এবং বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে ২ হাজার ২৫০ কোটি টাকার দাবি তোলা হয়েছে।

আপিল নিষ্পত্তির ক্ষেত্রেও দ্রুততার উপর জোর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বর্তমানে ২০ হাজার ৬৯৭টি আপিল বিচারাধীন রয়েছে বলে বৈঠকে জানানো হয়।

উত্তরপ্রদেশে বর্তমানে ২১.৮২ লক্ষ সক্রিয় করদাতা রয়েছেন, যা দেশের মধ্যে সর্বাধিক। জিএসটি নথিভুক্তিকরণের আবেদন নিষ্পত্তির গড় সময় উত্তরপ্রদেশে ৮ দিন, যেখানে জাতীয় গড় ১৪ দিন।

রিফান্ডের ক্ষেত্রেও উত্তরপ্রদেশ জাতীয় গড়ের তুলনায় এগিয়ে। রাজ্যে গড়ে ২৭ দিনের মধ্যে জিএসটি রিফান্ড নিষ্পত্তি হচ্ছে, যেখানে জাতীয় গড় ৪৮ দিন।

যোগী আদিত্যনাথ বলেন, ‘তথ্যভিত্তিক নজরদারি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিশ্লেষণ কর প্রশাসনকে আরও দক্ষ করবে এবং দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করবে।’

Related posts

Leave a Comment