দিল্লি: দেশের সীমান্ত সুরক্ষাকে আরও শক্তিশালী ও আধুনিক করে তুলতে কেন্দ্র সরকার বহুমাত্রিক পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। দিল্লিতে ‘সীমান্ত জেলা পুলিশ সুপার সম্মেলন-২০২৬’-এ বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, এই সম্মেলনের মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক সীমান্ত নিরাপত্তার ধারণাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে উপকূলীয় সীমান্ত সুরক্ষাকেও একইভাবে আরও সুসংহত করা হবে।
অমিত শাহ বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তা শুধুমাত্র সীমান্তরক্ষী বাহিনীর দায়িত্ব নয়। কেন্দ্র সরকার, সীমান্তরক্ষী বাহিনী, রাজ্য ও জেলা প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রীয় সংস্থা এবং সীমান্ত এলাকার সাধারণ মানুষকে একসঙ্গে যুক্ত করে একটি শক্তিশালী চারস্তরীয় নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হচ্ছে। এর ফলে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি ও নিরাপত্তা আরও কার্যকর হবে।
তিনি জানান, এই সম্মেলনে সীমান্ত নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সমস্যা, তার সমাধানের উপায় এবং প্রয়োজনীয় নীতিগত পদক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। সীমান্ত সুরক্ষাকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর ও আধুনিক করতে ‘স্মার্ট বর্ডার’-এর ধারণা বাস্তবায়নের ওপর জোর দিচ্ছে কেন্দ্র। তাঁর দাবি, আগামী দিনে ভারতের সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা বিশ্বের অন্যতম আধুনিক ব্যবস্থায় পরিণত হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নিরাপদ সীমান্ত, সমৃদ্ধ সীমান্ত অঞ্চল এবং সচেতন সমাজ—এই তিনটি বিষয় নিশ্চিত হলেই দেশের নিরাপত্তা আরও মজবুত হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে জম্মু ও কাশ্মীর এবং উত্তর-পূর্ব ভারতে সন্ত্রাসবাদ দমনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছে। একই সঙ্গে নকশালবাদ মোকাবিলাতেও কেন্দ্র সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে।
মাদক পাচার রুখতেও কেন্দ্র কঠোর অবস্থান নিয়েছে বলে জানান অমিত শাহ। তাঁর বক্তব্য, আগামী তিন বছরের মধ্যে মাদক চক্রকে বড় ধাক্কা দিয়ে এই সমস্যার বিরুদ্ধে নির্ণায়ক সাফল্য অর্জনের লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছে সরকার।
অনুপ্রবেশের প্রসঙ্গেও কড়া বার্তা দেন তিনি। বলেন, দেশকে অনুপ্রবেশমুক্ত করতে এবং ভবিষ্যতে যাতে কোনও অনুপ্রবেশ ঘটতে না পারে, তার জন্য একটি শক্তিশালী ও স্থায়ী ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে।
অমিত শাহের দাবি, অতীতে সমস্যাগুলি ছিল স্থায়ী, কিন্তু সমাধান ছিল সাময়িক। মোদী সরকারের আমলে সমস্যার মূল কারণের উপর আঘাত করে স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করার নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। সীমান্ত পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন এসেছে। তাঁর দাবি, গত কয়েক বছরে সীমান্ত পরিকাঠামোয় প্রায় ৪০০ শতাংশ বৃদ্ধি ঘটেছে এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে এই উন্নয়ন এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘ভাইব্র্যান্ট ভিলেজেস’ কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের শেষ প্রান্তের গ্রামগুলিকেই ‘দেশের প্রথম গ্রাম’ হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এই কর্মসূচির লক্ষ্য সীমান্ত এলাকা থেকে মানুষের স্থানান্তর রোধ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং সরকারি প্রকল্পগুলির শতভাগ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।
জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের বিষয়েও কেন্দ্র বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, অস্বাভাবিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণ চিহ্নিত করা, তার বিশ্লেষণ করা এবং ভবিষ্যতে তা প্রতিরোধের জন্য প্রয়োজনীয় সুপারিশ তৈরির উদ্দেশ্যে ‘ডেমোগ্রাফি মিশন’ শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
previous post
