দিল্লি: রাজধানী দিল্লির নাংলোই এলাকায় চলন্ত বেসরকারি বাসের ভিতরে এক মহিলাকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠল। ঘটনায় ইতিমধ্যেই দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে দিল্লি পুলিশ। ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্যাতিতা পিতমপুরার বস্তি এলাকায় থাকেন এবং মঙ্গোলপুরীর একটি কারখানায় কাজ করেন। গত ১১ মে রাতে কাজ সেরে প্রতিদিনের মতো হেঁটেই বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। সেই সময় সরস্বতী বিহারের বি-ব্লক বাসস্ট্যান্ডের কাছে একটি স্লিপার বাস দাঁড়ায়।
অভিযোগ, বাসের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা এক ব্যক্তির কাছে সময় জানতে চান ওই মহিলা। সেই সময় জোর করে তাঁকে বাসের ভিতরে টেনে নেওয়া হয়। এরপর বাসটি নাংলোইয়ের দিকে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে চলন্ত বাসের ভিতরেই তাঁকে গণধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ।
পুলিশ জানিয়েছে, নির্যাতিতা বিবাহিতা এবং তাঁর তিন সন্তান রয়েছে। ঘটনার পর চিকিৎসা পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়। এরপর নির্যাতিতার অভিযোগের ভিত্তিতে রানিবাগ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তদন্তকারী আধিকারিকদের দাবি, ঘটনায় ব্যবহৃত বাসটিও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। অভিযুক্ত দু’জনকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে। এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, পুরো ঘটনার তদন্ত সবদিক থেকে করা হচ্ছে এবং বিভিন্ন জায়গার সিসিটিভি ফুটেজও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে এই ঘটনার মধ্যেই দিল্লিতে আরও এক নাবালিকা নির্যাতনের ঘটনা সামনে এসেছে। গত ৯ মে পশ্চিম দিল্লির জনকপুরীর একটি বেসরকারি স্কুলে তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে স্কুলেরই ৫৭ বছরের এক কর্মীর বিরুদ্ধে।
অভিযোগ, স্কুলে ভর্তি হওয়ার দ্বিতীয় দিনেই ওই শিশুকে স্কুলের নির্জন জায়গায় নিয়ে গিয়ে যৌন নির্যাতন করা হয়। পরে শিশুর মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ধর্ষণ সংক্রান্ত ধারা এবং পকসো আইনে মামলা দায়ের করে পুলিশ। অভিযুক্ত স্কুলকর্মীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
দিল্লিতে পরপর এই ধরনের ঘটনায় মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিরোধী দল এবং সমাজের বিভিন্ন মহল কঠোর পদক্ষেপের দাবি তুলেছে।
previous post
