সংবাদ কলকাতা: দুর্গাপুজোর আগেই রাজ্য পুলিশে প্রায় ১২ হাজার কনস্টেবল নিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। রাজ্য পুলিশ নিয়োগ পর্ষদ (West Bengal Police Recruitment Board) জানিয়েছে, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় তৈরি হওয়া আইনি জটিলতা কাটিয়ে এখন দ্রুত কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এই নিয়োগ শেষ হলে জেলা পুলিশ এবং পুলিশ কমিশনারেটগুলিতে থাকা বহু শূন্যপদ পূরণ হবে।
পর্ষদ চেয়ারম্যান নীরজ কুমার সিং (Neeraj Kumar Singh) জানিয়েছেন, রাজ্য সরকারের নির্ধারিত নিয়ম মেনেই গোটা নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে। নিয়োগে স্বচ্ছতা বজায় রাখার পাশাপাশি পরীক্ষার প্রতিটি ধাপে নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আগের আইনি জটিলতা কাটিয়ে এখন নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার দিকে নজর দেওয়া হয়েছে।
পরীক্ষার নিরাপত্তার জন্য রাজ্যজুড়ে প্রায় ২২০০ থেকে ২৩০০টি পরীক্ষাকেন্দ্রে বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। প্রশ্নপত্র যাতে কোনওভাবেই বাইরে চলে যেতে না পারে, তার জন্য একাধিক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর উত্তরপত্র সংশ্লিষ্ট জেলার ট্রেজারিতে নিরাপদে জমা রাখার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
নিয়োগে প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের উত্তরপত্র নিয়ে কোনও প্রশ্ন বা আপত্তি থাকলে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে তা দেখার আবেদন বা চ্যালেঞ্জ জানানোর সুযোগ রয়েছে। এর ফলে পরীক্ষার ফল এবং মূল্যায়ন নিয়ে পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ থাকলে তা যাচাই করার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
কনস্টেবল নিয়োগে শুধু লিখিত পরীক্ষা নয়, একাধিক ধাপে প্রার্থীদের যোগ্যতা যাচাই করা হচ্ছে। শারীরিক সক্ষমতার পরীক্ষাতেও প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। দৌড় পরীক্ষার সময় পরীক্ষকদের টুপিতে ক্যামেরা (Body Camera) রাখা হচ্ছে। পরীক্ষার পুরো প্রক্রিয়া রেকর্ড করে রাখা হচ্ছে, যাতে পরে কোনও অভিযোগ উঠলে প্রয়োজন অনুযায়ী সেই দৃশ্য খতিয়ে দেখা যায়।
প্রথম দফায় প্রায় ১২ হাজার কনস্টেবল নিয়োগের পর রাজ্য পুলিশের নিয়োগ আরও বড় আকার নিতে পারে। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী পাঁচ থেকে ছয় মাসের মধ্যে আরও ১৭ হাজার ১৪৩ জনকে নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে আগামী দিনে রাজ্য পুলিশে বিপুল সংখ্যক নতুন কর্মী যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এই নিয়োগের গুরুত্ব শুধু চাকরিপ্রার্থীদের জন্য নয়, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও যথেষ্ট। দীর্ঘদিন ধরে থাকা শূন্যপদ পূরণ হলে বিভিন্ন জেলা এবং পুলিশ কমিশনারেটের হাতে বাড়তি কর্মী থাকবে। ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, সাধারণ মানুষের অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি এবং পুলিশের দৈনন্দিন কাজ আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করার সুযোগ তৈরি হবে।
একই সঙ্গে দীর্ঘদিন সরকারি চাকরির অপেক্ষায় থাকা বহু তরুণ-তরুণীর কাছেও এই নিয়োগ বড় সুযোগ। প্রথম দফার নিয়োগ দ্রুত শেষ করার পাশাপাশি পরবর্তী ১৭ হাজার ১৪৩টি পদের প্রক্রিয়া শুরু হলে সরকারি চাকরির বাজারে নতুন করে বড় সম্ভাবনা তৈরি হবে।
দুর্গাপুজোর আগে ১২ হাজার কনস্টেবল নিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে এখন নিয়োগ পর্ষদ কত দ্রুত পরবর্তী ধাপগুলি শেষ করতে পারে, সেটাই দেখার। নিয়োগ প্রক্রিয়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ হলে রাজ্য পুলিশ যেমন শক্তিশালী হবে, তেমনই বহু চাকরিপ্রার্থীর দীর্ঘ অপেক্ষারও অবসান ঘটতে পারে।
previous post
