পুজোর পর পুরভোটের প্রস্তুতি তুঙ্গে
সংবাদ কলকাতা: পুজোর ছুটি শেষ হওয়ার পরেই রাজ্যের বকেয়া পুরভোটের প্রক্রিয়া শুরু করতে প্রস্তুতি জোরদার করেছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। ভোটের প্রস্তুতি ও প্রশাসনিক কাজের অগ্রগতি খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট জেলার জেলাশাসকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার কৃষ্ণ গুপ্ত। কমিশনের বৈঠকে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস, আসন সংরক্ষণ, ভোটার তালিকা, ভোটকেন্দ্র, ভোটকর্মী, ইলেকট্রনিক ভোটযন্ত্র, আইনশৃঙ্খলা এবং নির্বাচনী খরচ-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
প্রশাসনিক সূত্রের খবর, প্রথম পর্যায়ে কলকাতা-সহ সাতটি পুরসভায় নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে ভোট হতে পারে। এই তালিকায় রয়েছে কলকাতা, হাওড়া, বালি, হলদিয়া, ধূপগুড়ি, কালিম্পং এবং কার্শিয়াং। সাতটি পুরসভা মিলিয়ে মোট ৬৩০১টি বুথে ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। তবে ভোটের দিন এখনও আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষণা করেনি রাজ্য নির্বাচন কমিশন। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে বিজ্ঞপ্তি জারি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং নভেম্বরের ২৭ থেকে ২৯ তারিখের মধ্যে ভোট হতে পারে বলে প্রশাসনিক মহলে আলোচনা চলছে।
কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভোটের প্রস্তুতির ক্ষেত্রে আসন পুনর্বিন্যাস ও সংরক্ষণের কাজ গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে ধরা হয়েছে। কলকাতা ও হাওড়ার জন্য ৭ অক্টোবর এবং অন্যান্য পুরসভার জন্য ৬ অক্টোবর সংরক্ষিত আসনের তালিকা চূড়ান্ত প্রকাশের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে বৈঠকে জানানো হয়েছে।
ভোটার তালিকা তৈরির কাজও একই সঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ১ জুলাই পর্যন্ত কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের পরিমার্জিত ভোটার তালিকাকে ভিত্তি করে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে প্রয়োজনীয় তথ্য গ্রহণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। তার পরে অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে খসড়া ভোটার তালিকা এবং নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ভোটকেন্দ্র চিহ্নিতকরণ ও প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো তৈরির কাজও একই সময়ের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভোটকর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রেও প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে একজন প্রিসাইডিং অফিসার এবং তিনজন পোলিং অফিসার রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত সংখ্যক অতিরিক্ত কর্মী প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ৬৩০১টি বুথের জন্য ৩৭ হাজারের বেশি ভোটকর্মীর প্রয়োজন হতে পারে বলে কমিশনের বৈঠকে হিসাব করা হয়েছে।
ইলেকট্রনিক ভোটযন্ত্র আনার কাজও এগোচ্ছে। ভারতের নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে পাওয়া ভোটযন্ত্র সংশ্লিষ্ট জেলাগুলিতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। প্রথম পর্যায়ের পরীক্ষা ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবরের মধ্যে করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রশাসনিক স্তরে ভোটকর্মীদের তথ্য সংগ্রহ এবং তাঁদের দায়িত্ব বণ্টনের কাজও নির্দিষ্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালনা করা হবে।
আইনশৃঙ্খলার বিষয়টিও বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে। অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে বুথভিত্তিক দায়িত্ব বণ্টনের ব্যবস্থা কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের নিজেদের এলাকার ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। স্পর্শকাতর ভোটকেন্দ্র চিহ্নিত করে সেখানে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসন ও পুলিশের মধ্যে সমন্বয়ের উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনী খরচের হিসাব নিয়েও জেলা প্রশাসনকে সক্রিয় হতে বলা হয়েছে। আগের পুরভোটের প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব নির্দিষ্ট নিয়মে জমা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি আসন্ন ভোটে প্রার্থীদের দৈনিক খরচের হিসাব রাখার ব্যবস্থাও করা হবে। ভোটের দিন আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষণা হওয়ার পরেই আদর্শ আচরণবিধি কার্যকর হবে।
প্রশাসনিক সূত্রের খবর, পুজোর পর প্রথম পর্যায়ের পুরভোটের প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইছে কমিশন। কলকাতা ও হাওড়া-সহ সাতটি পুরসভায় ভোটের পুরো প্রক্রিয়া ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে শেষ করার প্রস্তুতি চলছে। ৬৩০১টি বুথে ভোটগ্রহণের পরিকল্পনার কথা প্রকাশিত হয়েছে।
রাজ্যে আরও বহু পুরসভার নির্বাচনী প্রক্রিয়া বকেয়া রয়েছে। ফলে প্রথম পর্যায়ের ভোট শেষ করার পাশাপাশি পরবর্তী পর্যায়ের পুরসভাগুলির নির্বাচন নিয়েও আগামী কয়েক মাসে কমিশনকে প্রস্তুতি নিতে হবে। তবে কোন তারিখে কোন পুরসভায় ভোট হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরেই স্পষ্ট হবে।
