August 3, 2026
রাজ্য

পঞ্চায়েতের নিজস্ব আয় বাড়াতে নতুন এসওপি, বাড়িপিছু বছরে ১২০০ টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা

কলকাতা— রাজ্যের গ্রাম পঞ্চায়েতগুলির আর্থিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী করতে নতুন ‘স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর’ বা এসওপি জারি করেছে পঞ্চায়েত দপ্তর। নতুন নির্দেশিকায় কর সংগ্রহের নির্দিষ্ট সময়সীমা, বকেয়া কর আদায়ের পদ্ধতি, বিকল্প আয়ের উৎস খোঁজার পরিকল্পনা এবং রাজস্ব বৃদ্ধির জন্য একাধিক পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পঞ্চায়েতগুলিকে আর্থিক ভাবে আরও স্বনির্ভর করে তোলাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

নতুন এসওপি অনুযায়ী, গ্রামবাসীদের কর জমা দেওয়ার নির্দিষ্ট সময় ঘোষণা হওয়ার পর তিন সপ্তাহের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট গ্রাম পঞ্চায়েতকে কর সংগ্রহের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে হবে। করদাতাদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে প্রয়োজন হলে অফলাইনে কর জমা নেওয়ার ব্যবস্থাও রাখতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যাঁরা কর জমা দেবেন না, তাঁদের পৃথক তালিকা প্রস্তুত করতে হবে। সেই তালিকা প্রকাশের ১৫ দিনের মধ্যেও বকেয়া না মেটালে গ্রাম পঞ্চায়েত বৈঠক করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।


পঞ্চায়েত দপ্তরের মতে, নিয়মিত ও সময়বদ্ধ রাজস্ব সংগ্রহ নিশ্চিত করতে এই ব্যবস্থা কার্যকর ভূমিকা নেবে। একই সঙ্গে কর আদায়ের কাজকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার উপরও জোর দেওয়া হয়েছে।

কর আদায়ের হার বাড়াতে বিভিন্ন এলাকায় সচেতনতামূলক শিবির আয়োজনেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও এই কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। প্রশাসনের ধারণা, সাধারণ মানুষের মধ্যে কর প্রদানের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়লে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণও বৃদ্ধি পাবে।

শুধু করের উপর নির্ভর না করে পঞ্চায়েতগুলিকে বিকল্প আয়ের পথও খুঁজতে বলা হয়েছে। যে সব রাস্তা, সেতু বা ফেরিঘাট থেকে বৈধ ভাবে টোল আদায় করা সম্ভব, তার তালিকা তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি, বিজ্ঞাপন, হোর্ডিং, পর্যটন, হোমস্টে এবং পঞ্চায়েতের মালিকানাধীন হোটেল, কমিউনিটি হল, ফেরিঘাট বা অন্যান্য স্থাবর সম্পত্তি লিজ দিয়ে আয় বৃদ্ধির সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পঞ্চায়েত দপ্তরের লক্ষ্য, স্থানীয় সম্পদের সঠিক ব্যবহার করে গ্রাম পঞ্চায়েতগুলিকে আরও আর্থিক ভাবে সক্ষম করে তোলা। পাশাপাশি, পঞ্চায়েতের নিজস্ব আয়ে গ্রামে কী কী উন্নয়নমূলক কাজ হচ্ছে, সেই তথ্যও সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরতে বলা হয়েছে, যাতে কর প্রদানের প্রতি মানুষের আগ্রহ বৃদ্ধি পায়।

দপ্তর সূত্রের দাবি, ষোড়শ অর্থ কমিশনের আওতায় ২০২৮-২৯ থেকে ২০৩০-৩১ অর্থবর্ষ পর্যন্ত ‘পারফরম্যান্স গ্রান্ট’ হিসেবে রাজ্যের জন্য প্রায় ২৫২১ কোটি টাকা বরাদ্দের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সেই অর্থ পেতে হলে পঞ্চায়েতগুলির নিজস্ব রাজস্ব উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করতে হবে। বর্তমানে একটি বাড়ি থেকে বছরে গড়ে প্রায় ২৩৩ টাকা রাজস্ব আসে। নতুন লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, সেই অঙ্ক বাড়িয়ে বছরে বাড়িপিছু ১২০০ টাকায় পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এর আগে গ্রাম পঞ্চায়েতের আর্থিক লেনদেনের ক্ষমতায় পরিবর্তন এনে প্রশাসনিক কাঠামোয় সংস্কার করা হয়েছিল। তার পর এ বার রাজস্ব সংগ্রহের জন্য বিস্তারিত এসওপি জারি করে পঞ্চায়েত ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও আর্থিক ভাবে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিল রাজ্য সরকার। প্রশাসনের আশা, এই পদক্ষেপের ফলে আগামী দিনে পঞ্চায়েতগুলির নিজস্ব আয় উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং গ্রামোন্নয়নের কাজ আরও গতি পাবে।

Related posts

Leave a Comment