কলকাতা— রাজ্যের দুর্নীতিদমন শাখাকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করে তুলতে বড় প্রশাসনিক রদবদল করল রাজ্য সরকার। গোয়েন্দা বিভাগে কর্মরত তিন জন জ্যেষ্ঠ ভারতীয় পুলিশ সার্ভিস আধিকারিককে দুর্নীতিদমন শাখায় নিয়োগ করা হয়েছে। সোমবার সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।
সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, গোয়েন্দা বিভাগের মহাপরিদর্শক মুরলীধরকে দুর্নীতিদমন শাখায় নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গোয়েন্দা বিভাগের উপ-মহাপরিদর্শক আকাশ মাঘারিয়া এবং স্পেশ্যাল সুপারিনটেন্ডেন্ট কামনাশিস সেনকেও একই শাখায় আনা হয়েছে। প্রশাসনের মতে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে তদন্ত আরও গতিশীল ও কার্যকর করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

রাজ্যে সরকার গঠনের পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা বারবার উল্লেখ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনা না করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেই নীতির ভিত্তিতেই বিভিন্ন জেলায় দুর্নীতির অভিযোগে একাধিক অভিযান চালানো হয়েছে এবং বহু ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওই সব মামলার কয়েকটির তদন্ত করছে রাজ্যের দুর্নীতিদমন শাখা।
এই পরিস্থিতিতে তদন্তকারী সংস্থাকে আরও দক্ষ ও শক্তিশালী করতে অভিজ্ঞ পুলিশ আধিকারিকদের এই শাখায় আনার সিদ্ধান্তকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল। সরকারের আশা, নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের অভিজ্ঞতা দুর্নীতি সংক্রান্ত তদন্তে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

উল্লেখ্য, বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে একাধিক ভারতীয় পুলিশ সার্ভিস আধিকারিককে তাঁদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেই তালিকায় ছিলেন মুরলীধর এবং আকাশ মাঘারিয়াও। মুরলীধর তখন বিধাননগরের পুলিশ কমিশনার এবং আকাশ মাঘারিয়া হাওড়া পুলিশ কমিশনারের দায়িত্বে ছিলেন।
প্রথমে নির্বাচন কমিশন তাঁদের ভোট সংক্রান্ত দায়িত্বে অন্য রাজ্যে পাঠানোর কথা জানালেও পরে সেই নির্দেশ স্থগিত করা হয়। পরবর্তী সময়ে আকাশ মাঘারিয়াকে গোয়েন্দা বিভাগে পাঠানো হয়। অন্য দিকে, কিছু দিন বিধাননগরের পুলিশ কমিশনারের দায়িত্ব সামলানোর পর মুরলীধরকে গোয়েন্দা বিভাগে বদলি করা হয়। এ বার তাঁরা দু’জনই দুর্নীতিদমন শাখার দায়িত্বে যোগ দিচ্ছেন।
প্রশাসনিক সূত্রের মতে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের কড়া অবস্থানকে আরও কার্যকর করতে এবং গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলির তদন্ত দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যেতেই এই রদবদল করা হয়েছে। আগামী দিনে দুর্নীতিদমন শাখার তদন্তে এর প্রভাব পড়তে পারে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
