28 C
Kolkata
September 18, 2026
রাজ্য

জমি-দুর্নীতি মামলায় সুমিত রায়ের আগাম জামিন খারিজ, গ্রেপ্তারিতে আর বাধা নেই

কলকাতা— পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনির সরকারি জমি সংক্রান্ত দুর্নীতির মামলায় তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দিল কলকাতা হাই কোর্ট। বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ সোমবার এই নির্দেশ দেন। আদালতের এই সিদ্ধান্তের ফলে সংশ্লিষ্ট মামলায় সুমিতকে গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে আপাতত আর কোনও আইনি বাধা রইল না। তবে ডেবরা এলাকার একটি পৃথক চাকরি-দুর্নীতি মামলায় শর্তসাপেক্ষে তাঁকে আগাম জামিন দেওয়া হয়েছে।

তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনিতে সরকারি জমি ভুয়ো নথির মাধ্যমে দখল করে বিক্রির একটি চক্র সক্রিয় ছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, টাকার বিনিময়ে সরকারি জমি বিক্রির জন্য জাল নথি তৈরি করা হত এবং সেই প্রক্রিয়ায় সুমিত রায়ের ভূমিকা ছিল। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু করে পুলিশ।

তদন্ত চলাকালীন সুমিতের খোঁজ না মেলায় পুলিশ আদালতের দ্বারস্থ হয়। তদন্তকারীদের আবেদনের ভিত্তিতে মেদিনীপুরের মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। এরপর আইনজীবীর মাধ্যমে আগাম জামিনের আবেদন করেন সুমিত।

শুনানির আগে মামলাটি অন্য বেঞ্চে পাঠানোর আবেদন করা হলেও কলকাতা হাই কোর্ট সেই আর্জি গ্রহণ করেনি। আদালত জানিয়ে দেয়, নিয়মিত বেঞ্চেই মামলার শুনানি হবে। সেই অনুযায়ী বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের এজলাসে শুনানি হয় এবং আদালত জমি-দুর্নীতি মামলায় আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয়।

এই মামলায় নাম জড়ানোর পর থেকেই সুমিত রায়ের খোঁজে একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ। মোবাইলের অবস্থান বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা প্রথমে কলকাতার কালীঘাটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে যান। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর সেখানে তল্লাশি চালানো হয়। একই দিনে হুগলির শ্রীরামপুরে সুমিতের শ্বশুরবাড়িতেও অভিযান চালানো হলেও কোথাও তাঁর সন্ধান মেলেনি। তদন্তকারীদের দাবি, এখনও পর্যন্ত তিনি অধরা।


অন্য দিকে, ডেবরা এলাকায় একটি চাকরি-দুর্নীতি মামলাতেও সুমিত রায়ের নাম উঠে এসেছে। সেই মামলায় আগাম জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেছে কলকাতা হাই কোর্ট। তবে আদালত শর্ত দিয়েছে, আগামী ১০ দিনের মধ্যে তদন্তকারী আধিকারিকের কাছে হাজিরা দিতে হবে। পরবর্তী সময়ে তদন্তের প্রয়োজনে ডাকা হলে তাঁকে উপস্থিত থাকতেও হবে।

কলকাতা হাই কোর্টের এই নির্দেশের ফলে জমি-দুর্নীতি মামলার তদন্তে নতুন গতি আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এখন তদন্তকারী সংস্থা সুমিত রায়কে খুঁজে বের করে জিজ্ঞাসাবাদে আরও জোর দেবে বলে প্রশাসনিক সূত্রের ধারণা।

Related posts

Leave a Comment