কলকাতা — আগামী ১১ জুন দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে চলা নীতি আয়োগের বৈঠকে যোগ দেবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তার আগে রাজ্যের প্রতিটি দপ্তরের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহে উদ্যোগী হল নবান্ন। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সচিবদের ৫ জুনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।
নবান্ন সূত্রে খবর, নীতি আয়োগের বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের সার্বিক প্রশাসনিক, আর্থিক এবং উন্নয়নমূলক পরিস্থিতির বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরতে চান মুখ্যমন্ত্রী। সেই কারণেই বৈঠকের আগে প্রতিটি দপ্তরের কাজের অগ্রগতি, প্রকল্প বাস্তবায়ন, আর্থিক প্রয়োজন এবং কেন্দ্রীয় সহযোগিতার বিষয়গুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রাজ্য সরকারের মতে, গত ১৫ বছরে পূর্বতন সরকারের কেন্দ্রের সঙ্গে সংঘাতপূর্ণ অবস্থানের কারণে পশ্চিমবঙ্গ বহু ক্ষেত্রে প্রাপ্য কেন্দ্রীয় সুবিধা ও অনুদান থেকে বঞ্চিত হয়েছে। বর্তমান সরকার সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটিয়ে কেন্দ্রের কাছ থেকে রাজ্যের ন্যায্য প্রাপ্য আদায়ের বিষয়ে জোর দিতে চাইছে।
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের মতে, এবারের নীতি আয়োগ বৈঠক সেই লক্ষ্য পূরণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় অনুদানভিত্তিক প্রকল্পে আরও বেশি অংশগ্রহণের মাধ্যমে রাজ্যের আর্থিক চাপ কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
বর্তমানে নীতি আয়োগের উপাধ্যক্ষ পদে রয়েছেন অশোক লাহিড়ী। অর্থনীতি এবং প্রশাসনিক ক্ষেত্রে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। রাজ্য সরকারের একাংশের মতে, নীতি আয়োগের সঙ্গে ইতিবাচক সমন্বয়ের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়ন প্রকল্পগুলির জন্য অতিরিক্ত সহায়তা আদায়ের সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।
সূত্রের খবর, বৈঠকে রাজ্যের চলমান প্রকল্প, কেন্দ্রীয় বরাদ্দ, পরিকাঠামো উন্নয়ন, কৃষি, শিল্প, স্বাস্থ্য এবং সামাজিক কল্যাণমূলক কর্মসূচির বিষয়গুলি বিশেষভাবে তুলে ধরা হতে পারে। পাশাপাশি ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনার রূপরেখাও কেন্দ্রের সামনে উপস্থাপন করা হতে পারে।
জুন মাসের শেষ দিকে রাজ্যের পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তার আগে কেন্দ্রীয় সহায়তাপ্রাপ্ত প্রকল্পে অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করতে পারলে রাজ্যের আর্থিক বোঝা অনেকটাই কমবে বলে মনে করছে প্রশাসন। কারণ অধিকাংশ কেন্দ্রীয় প্রকল্পে অন্তত ৫০ শতাংশ পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে দেওয়া হয়।
সোমবার আরও ৩৫ জন বিধায়ক মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেও এখনও দপ্তর বণ্টন সম্পূর্ণ হয়নি। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন মন্ত্রীদের পক্ষে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন করা সম্ভব নয়। সেই কারণেই আপাতত সচিবদের উপর রিপোর্ট তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, সচিবদের জমা দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই মুখ্যমন্ত্রী বৈঠকের জন্য চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেবেন এবং পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়ন ও আর্থিক স্বার্থের বিষয়গুলি জোরালোভাবে তুলে ধরবেন।
next post
