লখনউ, ২৩ মে ভয়াবহ তাপপ্রবাহে কার্যত দগ্ধ উত্তরপ্রদেশ। টানা পাঁচ দিন ধরে চলা দাবদাহে রাজ্যের একাধিক জেলায় তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গিয়েছে। বান্দায় বৃহস্পতিবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ৪৭.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা দেশের মধ্যে সর্বাধিক বলেই জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।
প্রয়াগরাজে তাপমাত্রা পৌঁছেছে ৪৬.৬ ডিগ্রিতে। বারাণসীতে ৪৫.৬ ডিগ্রি, হামিরপুর ও সুলতানপুরে ৪৫.২ ডিগ্রি এবং আমেঠিতে ৪৫.১ ডিগ্রি তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে। রাজ্যের রাজধানী লখনউতেও এ মরশুমের সর্বোচ্চ ৪৩.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা নথিভুক্ত হয়েছে।
প্রচণ্ড গরমে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দুপুরের পর থেকেই বহু জায়গায় রাস্তাঘাট কার্যত জনশূন্য হয়ে যাচ্ছে। তীব্র গরম এবং গরম হাওয়ার জেরে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় আগাম গরমের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে স্কুল-কলেজে।
আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, পূর্ব ও দক্ষিণ উত্তরপ্রদেশে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। শুক্রবারের জন্য বান্দা, চিত্রকূট, কৌশাম্বি, প্রয়াগরাজ, ফতেপুর, প্রতাপগড়, মির্জাপুর, বারাণসী, ভদোহি এবং জৌনপুরে লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পশ্চিম উত্তরপ্রদেশে গরম রাতের জন্য কমলা সতর্কতা এবং পূর্বাঞ্চলে অতিরিক্ত উষ্ণ রাতের জন্য লাল সতর্কতা জারি রয়েছে।
লখনউয়ের সিভিল হাসপাতালে হিটস্ট্রোক আক্রান্তদের জন্য বিশেষ ১০ শয্যার ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। সেখানে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘর, ওআরএস, বরফের প্যাকেট-সহ জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। অন্য জেলাগুলিতেও একই ধরনের বিশেষ ওয়ার্ড তৈরি করা হয়েছে।
চিত্রকূটে পশুদের গরম থেকে রক্ষা করতে বিশেষ শাওয়ার ব্যবস্থাও চালু করেছে প্রশাসন। আবহবিদ অতুল কুমার সিংহ জানিয়েছেন, উত্তরপ্রদেশের উপর দিয়ে একটি ট্রাফলাইন যাওয়ায় পূর্ব দিকের গরম হাওয়া বইছে। সেই কারণেই প্রকৃত তাপমাত্রার থেকেও ২ থেকে ৩ ডিগ্রি বেশি গরম অনুভূত হচ্ছে।
তিনি আরও জানিয়েছেন, আগামী তিন থেকে চার দিন পরিস্থিতির উন্নতির সম্ভাবনা নেই। তবে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু দ্রুত এগোচ্ছে এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যে কেরলে পৌঁছতে পারে। তার প্রভাব পরে দেশের অন্যান্য অংশেও পড়তে পারে বলে আশা আবহবিদদের।
