May 22, 2026
দেশ

এনসিইআরটি বিতর্কে শিক্ষাবিদদের স্বস্তি, কড়া মন্তব্য সরাবে সুপ্রিম কোর্ট

নয়াদিল্লি — এনসিইআরটি-র অষ্টম শ্রেণির সমাজবিজ্ঞান বইয়ে ‘বিচারব্যবস্থায় দুর্নীতি’ অধ্যায় ঘিরে বিতর্কের মামলায় গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান নিল সুপ্রিম কোর্ট। বিতর্কিত অধ্যায়ের সঙ্গে যুক্ত তিন শিক্ষাবিদ — মিশেল ড্যানিনো, সুপর্ণা দিবাকর এবং অলোক প্রসন্ন কুমারের বিরুদ্ধে করা কড়া মন্তব্য প্রত্যাহারের আশ্বাস দিল শীর্ষ আদালত।

প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির বেঞ্চ জানায়, বিতর্কিত অধ্যায়ের বিষয়বস্তু নিয়ে আদালতের আপত্তি থাকলেও শিক্ষাবিদদের ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য নিয়ে যে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছিল, তা মুছে দেওয়া হবে।

আদালত পর্যবেক্ষণে জানায়, ‘অষ্টম শ্রেণির বইয়ে এই ধরনের বিষয়বস্তু সম্পূর্ণ অনভিপ্রেত এবং অপ্রয়োজনীয় ছিল। তবে এই বিষয়ে নতুন পাঠ্যসূচি তৈরির জন্য কেন্দ্র ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতির নেতৃত্বে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করেছে।’

শুনানির সময় বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, ‘আমরা জানতাম পর্যবেক্ষণগুলি কঠোর ছিল এবং তা ওঁদের উপর প্রভাব ফেলেছে। সেই কারণেই আমরা ওই অংশগুলি সরিয়ে দিচ্ছি।’

সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দেয়, আদালতের আপত্তি ছিল শুধুমাত্র পাঠ্যবইয়ের ‘বিষয়বস্তু’ নিয়ে, কোনও ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে নয়।

আদালতের মতে, ওই অধ্যায়ে বিচারব্যবস্থার ক্ষেত্রে ‘দুর্নীতি’কে এমন ভাবে তুলে ধরা হয়েছিল, যেন সেটাই বিচারব্যবস্থার প্রধান বৈশিষ্ট্য। পাশাপাশি আইনি সহায়তা, বিচারকদের ভূমিকা এবং সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রসঙ্গ সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হয়েছিল বলেও মন্তব্য করে বেঞ্চ।

শিক্ষাবিদদের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে প্রবীণ আইনজীবী শ্যাম দিবান, গোপাল শঙ্করনারায়ণন এবং জে সাই দীপক আদালতকে জানান, বিচারব্যবস্থাকে হেয় করার কোনও উদ্দেশ্য তাঁদের মক্কেলদের ছিল না।

তবে আদালত শিক্ষাবিদদের উদ্দেশে বলে, বিচারব্যবস্থা নিয়ে শিক্ষামূলক বিষয়বস্তু তৈরি করার ক্ষেত্রে সংযম এবং ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি।

Related posts

Leave a Comment