May 22, 2026
দেশ

পাঞ্জাবে ফের সমীকরণের কেন্দ্রে মায়াবতী, ৩২ শতাংশ দলিত ভোটে নজর কংগ্রেস-বিজেপির

লখনউয়ে বিএসপি প্রধান মায়াবতীর বাসভবনে সম্প্রতি হঠাৎ করেই হাজির হয়েছিলেন কংগ্রেসের দুই দলিত নেতা। তবে পূর্বনির্ধারিত সময় না থাকায় তাঁদের ফিরিয়ে দেওয়া হয় বলেই জানা গিয়েছে। পরে কংগ্রেস নেতৃত্বও ওই সফরকে ‘অননুমোদিত’ বলে জানিয়ে শোকজ নোটিস পাঠায়। রাজনৈতিক মহলের মতে, সমাজবাদী পার্টির সঙ্গে জোটের ভারসাম্য নষ্ট এড়াতেই এই পদক্ষেপ নেয় কংগ্রেস।

তবে এই ঘটনাকে ঘিরেই নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে— পাঞ্জাবে কি আবার বিএসপির সঙ্গে সমীকরণ গড়তে চাইছে কংগ্রেস? পর্যবেক্ষকদের মতে, মায়াবতী এখনও বিজেপি ও কংগ্রেস— দুই শিবির থেকেই সমদূরত্ব বজায় রাখার কৌশল নিয়েছেন। কিন্তু ভোটের রাজনীতিতে সমীকরণ দ্রুত বদলায়, বিশেষ করে যখন বড় ভোটব্যাঙ্কের প্রশ্ন উঠে আসে।

পাঞ্জাবে বর্তমানে প্রায় ৩২ শতাংশ দলিত জনসংখ্যা রয়েছে। সেই কারণেই বহুজন সমাজ পার্টি (বিএসপি) এখনও কংগ্রেস, বিজেপি এবং শিরোমণি আকালি দলের কাছে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ফ্যাক্টর বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও গত কয়েক বছরে পাঞ্জাবে বিএসপির সংগঠন অনেকটাই দুর্বল হয়েছে।

২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে নিজেদের সংগঠনকে ফের শক্তিশালী করতে স্থানীয় পুরভোটে একাই লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসপি। এর আগে ২০২২ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার পর আকালি দল বিএসপির সঙ্গে জোট গড়েছিল।

পাঞ্জাবে বিএসপির উত্থান শুরু হয়েছিল আশির দশকের শেষ দিকে। দলটির প্রতিষ্ঠাতা কাংশীরাম নিজে পাঞ্জাবের মানুষ হওয়ায় দলিত সমাজে তাঁর গভীর প্রভাব ছিল। ১৯৯২ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিএসপি ৯টি আসন জিতে বড় শক্তি হিসেবে উঠে আসে, বিশেষ করে দোয়াবা অঞ্চলে। সেই সময় আকালি দল নির্বাচনে অংশ নেয়নি, ফলে কংগ্রেস বিরোধী ভোটের বড় অংশ বিএসপির দিকে যায়।

এরপর ১৯৯৬ সালের লোকসভা নির্বাচনে আকালি দলের সঙ্গে জোটে লড়ে পাঞ্জাবের ১৩টির মধ্যে ৩টি আসন জেতে বিএসপি। সেই ফলাফল প্রমাণ করেছিল, আঞ্চলিক শক্তির সঙ্গে জোট হলে দলটির মূল দলিত ভোটব্যাঙ্ক নির্বাচনের ফল ঘুরিয়ে দিতে পারে।

তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দলের প্রভাব কমতে থাকে। বিশ্লেষকদের মতে, মায়াবতীর উত্তরপ্রদেশ-কেন্দ্রিক রাজনীতি, পাঞ্জাবে শক্তিশালী স্থানীয় নেতৃত্বের অভাব এবং কংগ্রেস ও আকালি দলের দলিত ভোট পুনরুদ্ধারের ফলে বিএসপি দুর্বল হয়ে পড়ে। বর্তমানে পাঞ্জাবে তাদের ভোটশেয়ার প্রায় ১.৫ থেকে ১.৮ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ।

তা সত্ত্বেও দোয়াবা অঞ্চলের মতো দলিত অধ্যুষিত এলাকায় এখনও কিছুটা প্রভাব রয়েছে বিএসপির। ফলে রাজনৈতিক সমীকরণে দলটিকে পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কংগ্রেসের কাছে বিএসপির সঙ্গে সমঝোতা মানে দলিত ভোট আরও সংহত করা এবং আম আদমি পার্টির বিরুদ্ধে শক্তি বাড়ানো। অন্যদিকে বিজেপি এখন ‘নন-জাট’ সামাজিক সমীকরণ গড়ার কৌশলে এগোচ্ছে। আকালি দলের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর পাঞ্জাবে নিজেদের সংগঠন বাড়াতে দলিত ভোটকে বড় অস্ত্র হিসেবেই দেখছে গেরুয়া শিবির।

Related posts

Leave a Comment