September 6, 2026
রাজ্য

দামোদরের জল উপচে উদয়নারায়ণপুরে বন্যা, প্লাবিত ১০ গ্রাম; ত্রাণ শিবিরে ৭৫৮ জন

নিজস্ব সংবাদদাতা, হাওড়া— বৃহস্পতিবার রাত থেকেই দামোদরের বাঁধ উপচে হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরের বিস্তীর্ণ এলাকায় জল ঢুকতে শুরু করেছে। তিনটি গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তত ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এদিন দুপুর পর্যন্ত ডিভিসি ১ লক্ষ ৪৬ হাজার কিউসেক জল ছাড়ায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে। কুরচি-শিবপুর, ডিহিভুরশুট এবং হরিশপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বিভিন্ন এলাকা জলের তলায় চলে গিয়েছে।

ব্লক প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, উদয়নারায়ণপুরে তিনটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় মোট সাতটি ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে। সেখানে ৬৩৮ জন গ্রামবাসী আশ্রয় নিয়েছেন। ত্রাণ শিবিরগুলিতে প্রশাসনের তরফে রান্না করা খাবার দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি শুকনো খাদ্যসামগ্রীও বিতরণ করা হচ্ছে। পরিস্থিতির দিকে নজর রেখে প্রশাসনের তরফে আরও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার রাত থেকেই ঘোলা, আকনা, কুরচি, শিবানীপুর, মনসুকা, টোকাপুর-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় নদীবাঁধ উপচে জল ঢুকতে শুরু করে। জল বাড়তে থাকায় উদয়নারায়ণপুর-ডিহিভুরশুট সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দিতে হয়েছে। ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের যাতায়াতেও সমস্যা তৈরি হয়েছে।


বন্যার জেরে চাষবাস নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে জল ঢুকে পড়ায় ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন চাষিরা। প্রশাসন জানিয়েছে, জল নামার পর ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত সমীক্ষা করা হবে। কতটা কৃষিজমি এবং কত পরিমাণ ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেই হিসাবও নেওয়া হবে।

পরিস্থিতির খবর পেয়ে শুক্রবার উদয়নারায়ণপুরের প্লাবিত এলাকা পরিদর্শনে যান প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকেরা। জেলাশাসক পি দীপাপ্রিয়া, হাওড়া গ্রামীণ পুলিশের পুলিশ সুপার অমিত শর্মা, রাজ্য পুলিশের প্রেসিডেন্সি রেঞ্জের আইজি কংকরপ্রসাদ বারুই, উলুবেড়িয়ার মহকুমাশাসক মানসকুমার মণ্ডল এবং আমতার বিধায়ক অমিত সামন্ত এলাকা ঘুরে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে পাঁচলায় জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখান থেকেই তিনি প্রশাসনিক আধিকারিকদের পাশাপাশি আমতার বিধায়ককে উদয়নারায়ণপুরে গিয়ে পরিস্থিতি দেখার নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশের পরই শুক্রবার প্রশাসনিক স্তরে তৎপরতা বাড়ানো হয়।

শুধু উদয়নারায়ণপুর নয়, ডিভিসির ছাড়া জলের প্রভাব পড়েছে আমতা দুই নম্বর ব্লকের দ্বীপাঞ্চলেও। ভাটোরা এবং ঘোড়াবেড়িয়া চিৎনান গ্রাম পঞ্চায়েতের বেশ কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ওই দুই গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় তিনটি ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে। সেখানে ১২০ জন গ্রামবাসী আশ্রয় নিয়েছেন। শুক্রবার ডিভিসি ১ লক্ষ ১৬ হাজার কিউসেক জল ছাড়ে।


তবে জেলা প্রশাসনের এক কর্তার বক্তব্য, পরিস্থিতির আর অবনতি হবে না বলেই আশা করা হচ্ছে। জল ছাড়ার পরিমাণ কমলে ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলে প্রশাসনের আশা। তবে নদীর জলস্তর এবং বাঁধের পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে।

এদিকে দামোদরের জল উপচে হুগলি জেলার ধনেখালি, তারকেশ্বর এবং জাঙ্গিপাড়া ব্লকের বিভিন্ন এলাকাতেও জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। একাধিক জায়গায় চাষের জমিতে জল ঢুকে গিয়েছে। নদীবাঁধ সংলগ্ন এলাকায় বসবাসকারী মানুষদের মধ্যে যাঁদের ঝুঁকি বেশি, তাঁদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে গিয়েছে প্রশাসন।

তারকেশ্বরের চাঁপাডাঙা এবং কেশবচকের নিচু এলাকায় জল ঢুকে পড়েছে। শুক্রবার বিকেলে বন্যা পরিস্থিতি দেখতে কেশবচক গ্রামের কাঁড়ারিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ত্রাণ শিবিরে যান জনস্বাস্থ্য কারিগরি মন্ত্রী ভাস্কর ভট্টাচার্য। সেখানে আশ্রয় নেওয়া মানুষের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি ত্রাণ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার খোঁজ নেন তিনি।

দামোদরের জল বাড়ায় হাওড়া ও হুগলির বিস্তীর্ণ এলাকায় নতুন করে বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের নজর এখন নদীর জলস্তর, বাঁধের পরিস্থিতি এবং প্লাবিত এলাকার মানুষের নিরাপত্তার দিকে। আপাতত ত্রাণ শিবিরগুলিতে আশ্রয় নেওয়া বাসিন্দাদের খাবার, জল এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার কাজ চলছে।

Related posts

Leave a Comment