সংবাদ কলকাতা: একজন শিক্ষকের দায়িত্ব শুধু বইয়ের পাতা ধরে পাঠ পড়ানোতেই সীমাবদ্ধ নয়। শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা, মানবিকতা, যুক্তিবোধ এবং দেশের প্রতি দায়বদ্ধতার বোধ তৈরি করাও শিক্ষকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। শিক্ষক দিবস উপলক্ষে এমনই বার্তা দিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। শনিবার শিক্ষক দিবস উপলক্ষে লেখা তাঁর বিশেষ নিবন্ধ ‘Shaping Minds; Building the Future’-এ শিক্ষকদের ভূমিকা এবং দায়িত্বের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি জানিয়েছেন, ছাত্রছাত্রীদের ভাল মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাই শিক্ষকদের অন্যতম পবিত্র দায়িত্ব। কোনও পড়ুয়া যদি নৈতিকতা ও মূল্যবোধকে সঙ্গে নিয়ে জীবনে সাফল্য এবং সম্মান অর্জন করতে পারে, সেটিই একজন শিক্ষকের কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। শুধু পরীক্ষায় ভাল ফল নয়, একজন শিক্ষার্থীর চরিত্র, চিন্তাভাবনা এবং দায়িত্ববোধ গড়ে তোলার উপরও শিক্ষকদের গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

দ্রৌপদী মুর্মুর বক্তব্য, ভারত ধীরে ধীরে একটি উন্নত দেশ হওয়ার লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে। সেই যাত্রায় সামাজিক অন্তর্ভুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আগামী প্রজন্মকে এমন ভাবে তৈরি করতে হবে, যাতে তারা দেশের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে সম্মান করার পাশাপাশি বিজ্ঞানমনস্ক এবং যুক্তিবাদী হয়ে উঠতে পারে।
শিক্ষকদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতির বার্তা, পড়ুয়াদের মধ্যে মানবকল্যাণের ভাবনা তৈরি করতে হবে। পরিবেশ এবং সমস্ত জীবের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়ার শিক্ষা দিতে হবে। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত উৎকর্ষের লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা তৈরি করা প্রয়োজন। ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ‘দেশ আগে’ ভাবনাও গড়ে তোলার উপর জোর দিয়েছেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, সন্তানদের স্কুলে পাঠানোর সময় অভিভাবকেরা শিক্ষকদের উপর গভীর আস্থা রাখেন। তাঁদের বিশ্বাস, শিক্ষকরা তাঁদের সন্তানদের নিজের সন্তানের মতোই যত্ন নেবেন এবং নিরাপত্তা ও বিকাশের দিকে নজর রাখবেন। এই বিশ্বাসকে সম্মান করা প্রত্যেক শিক্ষকের পবিত্র দায়িত্ব।
পড়ুয়াদের মনে যেন শিক্ষকদের আচরণ থেকে ভয়, উদ্বেগ বা হীনমন্যতা তৈরি না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক করেছেন রাষ্ট্রপতি। তাঁর মতে, একজন ভাল শিক্ষক এমন পরিবেশ তৈরি করেন, যেখানে ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের ক্ষমতার উপর আস্থা রাখতে শেখে এবং নিজেদের সেরাটা দেওয়ার সাহস পায়।
স্বাধীন ভাবে চিন্তা করার ক্ষমতা, প্রশ্ন করার আগ্রহ, কৌতূহল এবং যুক্তি ও বিচারবুদ্ধিকে আরও শক্তিশালী করে তোলাও শিক্ষার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেছেন দ্রৌপদী মুর্মু। তাঁর মতে, এই ধরনের শিক্ষার মাধ্যমেই আগামী দিনে সফল উদ্যোক্তা, বিজ্ঞানী, শিল্পী এবং নতুন সমস্যার অভিনব সমাধান খুঁজে নিতে সক্ষম নাগরিক তৈরি হবে।

নিজের জীবনেও শিক্ষকদের অবদানের কথা স্মরণ করেছেন রাষ্ট্রপতি। তাঁর বক্তব্য, একজন স্নেহশীল ও নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক একটি পড়ুয়ার মধ্যে লুকিয়ে থাকা সম্ভাবনাকে জাগিয়ে তুলতে পারেন। শিক্ষকের উৎসাহই অনেক সময় ছাত্রছাত্রীদের কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলা করার সাহস দেয় এবং বড় স্বপ্ন দেখার আত্মবিশ্বাস তৈরি করে।
সবশেষে দেশের নাগরিকদেরও নিষ্ঠাবান ও সৎ শিক্ষকদের সর্বোচ্চ সম্মান দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। তাঁর আশা, শিক্ষকদের অবদানে ভারত শুধু জ্ঞান অর্জনকারী দেশ হিসেবেই এগিয়ে যাবে না, ভবিষ্যতে বিশ্বকে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতাও অর্জন করবে।
