সংবাদ কলকাতা: নিউ ফরাক্কার কাছে রেললাইনের নীচে মাটি বসে ট্রেন চলাচল বিপর্যস্ত হওয়ার ঘটনায় যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে সক্রিয় হল রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী শুক্রবার জানিয়েছেন, বিভিন্ন জায়গায় আটকে থাকা রেলযাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দিতে বিনা খরচে ২০টি বাস চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি ট্রেনে আটকে থাকা যাত্রীদের জন্য খাবার ও জল পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে মালদহ ও মুর্শিদাবাদ জেলা প্রশাসনকে।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, শুক্রবার রাতের মধ্যে রেল পরিষেবা স্বাভাবিক না হলে আটকে থাকা যাত্রীদের রাতে থাকার ব্যবস্থাও করবে জেলা প্রশাসন। তাঁদের খাবারের ব্যবস্থাও করা হবে। ফলে রেললাইনের ধসের কারণে দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকা যাত্রীদের জন্য বিকল্প পরিবহণের পাশাপাশি থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থাও করতে চলেছে প্রশাসন।
বুধবার গভীর রাতে নিউ ফরাক্কা স্টেশনের আগে রেললাইনের নীচের মাটি বসে যাওয়ার পর থেকেই এই পথে ট্রেন চলাচলে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হয়েছে। রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, নিউ ফরাক্কা স্টেশন থেকে প্রায় ১০০ মিটার দূরে বারহাড়োয়ার দিকে প্রায় ২০ মিটার অংশ জুড়ে রেললাইনের নীচের মাটি কয়েক ফুট বসে যায়। রাত আড়াইটে নাগাদ রেললাইন নজরদারির দায়িত্বে থাকা কর্মীরা প্রথম বিষয়টি দেখতে পান। তাঁরাই বিষয়টি ফরাক্কার স্টেশন ম্যানেজারকে জানান। খবর পেয়ে রেলের আধিকারিকেরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান এবং আপ লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এর জেরে উত্তরবঙ্গমুখী একাধিক দূরপাল্লার ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে আটকে পড়ে। বৃহস্পতিবার বিকেলের পর ডাউন লাইন দিয়ে সীমিত সংখ্যক ট্রেন চালানো সম্ভব হলেও যাত্রীসুরক্ষার কথা মাথায় রেখে বেশির ভাগ ট্রেন বাতিল করা হয়। এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার গভীর রাতে নিউ ফরাক্কার কাছে রেললাইন বরাবর নতুন করে ধস নামায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

শুক্রবারও হাওড়া-নিউ জলপাইগুড়ি বন্দে ভারত-সহ একাধিক দূরপাল্লার ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। হাওড়া-বালুরঘাট এবং হাওড়া-রাধিকাপুর কুলিক এক্সপ্রেসও বাতিলের তালিকায় রয়েছে। কিছু ট্রেনের যাত্রাপথ পরিবর্তন করে নলহাটি, আজিমগঞ্জ হয়ে নিউ ফরাক্কার দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে। অন্য একটি ট্রেনের যাত্রাপথ সংক্ষিপ্ত করে রামপুরহাট পর্যন্ত চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রেল কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং ধসমুক্ত ঘোষণা না করা পর্যন্ত স্বাভাবিক ভাবে ট্রেন চালানো হবে না। মাটি বসে যাওয়ার জায়গায় পাথরকুচি ও অন্যান্য সামগ্রী দিয়ে মেরামতির কাজ চলছে। রেলকর্মী ও ইঞ্জিনিয়ারেরা দ্রুত পরিষেবা স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছেন।
তবে বারবার নতুন করে মাটি সরে যাওয়ায় মেরামতির কাজেও সমস্যা তৈরি হচ্ছে। ফলে কবে আপ লাইনে পুরোপুরি ট্রেন চলাচল শুরু হবে, তা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে। এই অবস্থায় দূরপাল্লার ট্রেনের যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
রেল পরিষেবা ব্যাহত হওয়ায় ইতিমধ্যেই বিকল্প পরিবহণের উপর চাপ বেড়েছে। বহু যাত্রীকে বাসে গন্তব্যে পৌঁছতে হচ্ছে। সেই পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকারের তরফে বিনা খরচে ২০টি বাস চালানোর সিদ্ধান্ত যাত্রীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে ট্রেনে আটকে থাকা যাত্রীদের কাছে খাবার ও জল পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।

রাজ্য সরকারের বক্তব্য, রেল পরিষেবা স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত যাত্রীদের যাতে কোনও রকম সমস্যার মধ্যে পড়তে না হয়, সে দিকে নজর রাখা হবে। শুক্রবার রাতেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে প্রশাসনের তরফে রাত কাটানোর ব্যবস্থা করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
