28 C
Kolkata
August 23, 2026
রাজ্য

ভুয়ো বিল বানিয়ে সরকারি টাকা লুটের অভিযোগ, হাসপাতাল-নার্সিংহোমে স্বাস্থ্যভবনের তদন্ত

স্বাস্থ্য বিমা প্রকল্পের টাকা হাতাতে ভুয়ো নথি ও বিল তৈরির অভিযোগ উঠল একাধিক বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে। অভিযোগ সামনে আসার পরই তদন্তে নেমেছে স্বাস্থ্যভবন। পূর্ব বর্ধমানের একটি বেসরকারি মাল্টি স্পেশালিটি হাসপাতালে পরিদর্শনের সময় এমনই একাধিক অনিয়ম ধরা পড়েছে বলে স্বাস্থ্যভবন সূত্রে খবর।

রাজ্যের সাধারণ মানুষের চিকিৎসার খরচে সহায়তা দিতে বর্তমানে একাধিক সরকারি স্বাস্থ্য বিমা প্রকল্প চালু রয়েছে। সেই প্রকল্পগুলির তহবিলের টাকা হাতাতেই এক শ্রেণির অসাধু হাসপাতাল ও নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ ভুয়ো নথি তৈরি করছে বলে অভিযোগ।

কয়েক দিন আগে পূর্ব বর্ধমানের একটি নার্সিংহোমে আচমকা পরিদর্শনে যায় স্বাস্থ্যভবনের প্রতিনিধিদল। সেখানেই রোগীদের চিকিৎসার ধরন এবং প্রকল্পের আওতায় জমা দেওয়া বিলের মধ্যে অসঙ্গতি নজরে আসে বলে দাবি তদন্তকারীদের। এরপর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়।

স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের ‘মেডিক্যাল ম্যানেজমেন্ট প্যাকেজ’ নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এই প্যাকেজে রোগী ভর্তি হলে চিকিৎসার খরচের নির্দিষ্ট সীমা থাকে না। কিন্তু অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের রোগীদের ওই প্যাকেজে ভর্তি করিয়ে ভুয়ো বিল তৈরি করে সরকারি অর্থ দাবি করা হয়েছে।

স্বাস্থ্যভবন সূত্রে আরও অভিযোগ, যেখানে অর্থোপেডিক অস্ত্রোপচারের খরচ সাধারণত ৩০ থেকে ৪৫ হাজার টাকার মধ্যে, সেখানে একই ধরনের রোগীর চিকিৎসা ‘মেডিক্যাল ম্যানেজমেন্ট প্যাকেজ’-এর মাধ্যমে করিয়ে ৯০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিল দেখানো হয়েছে। এমন ১৪টি ঘটনা তদন্তকারীদের নজরে এসেছে বলে জানা গিয়েছে।

শুধু তাই নয়, যে সমস্ত রোগের চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের আওতায় নেই, সেই রোগীদেরও প্রকল্পের সুবিধা দেওয়ার কথা বলে ভর্তি করানোর অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতালের নথিতে চিকিৎসকের যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মেরুদণ্ডের অস্ত্রোপচার সাধারণত নিউরো সার্জনের করার কথা হলেও নথিতে সেই অস্ত্রোপচার অর্থোপেডিক সার্জন করেছেন বলে উল্লেখ রয়েছে।

সরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোম সংগঠনের দাবি, পূর্ব বর্ধমানের ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় আরও একাধিক প্রতিষ্ঠানে একই ধরনের অনিয়ম হয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।


এ ধরনের দুর্নীতি বন্ধ না হলে সরকারি স্বাস্থ্য প্রকল্পের তহবিল যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তেমনই ভবিষ্যতে প্রকৃত রোগীরাও পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন বলে আশঙ্কা। তাই অভিযোগ পাওয়া মাত্রই সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল ও নার্সিংহোমগুলির নথি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে স্বাস্থ্যভবন সূত্রে খবর।

অ্যাসোসিয়েশন অফ প্রাইভেট হসপিটাল অ্যান্ড নার্সিংহোমের সম্পাদক রাজীব পান্ডে জানিয়েছেন, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা যাতে স্বচ্ছ ভাবে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছয়, সেটাই তাঁদের সংগঠনের লক্ষ্য। দুর্নীতিতে যুক্ত কোনও হাসপাতাল বা নার্সিংহোমকে সংগঠনের সদস্য না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

Related posts

Leave a Comment