April 16, 2026
রাজ্য

ভোটে কড়া নজরদারি, খোলা বুথে বাঁশের ঘেরাটোপ, উত্তেজনাপ্রবণ বুথে ৩টি করে ক্যামেরা

সংবাদ কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Assembly Election) সামনে রেখে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India)। সীমানাহীন ভোটকেন্দ্রে (Unenclosed Polling Booth) বাঁশের ঘেরাটোপ (Bamboo Fencing) বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি সংবেদনশীল বুথে তিনটি করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর নজরদারি ক্যামেরা (AI CCTV Cameras) বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, একাধিক ভোটকেন্দ্র স্কুল ভবনে রয়েছে যেখানে কোনও সীমানা প্রাচীর নেই। ফলে সহজেই অননুমোদিত ব্যক্তিরা ভিতরে ঢুকে পড়ার আশঙ্কা থাকে। এই সমস্যা মোকাবিলায় বাঁশের বেড়া তৈরি করে বুথ ঘিরে ফেলা হবে।

বিশেষ করে জঙ্গলঘেরা বা দূরবর্তী এলাকার বুথগুলিকে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেখানে অতিরিক্ত নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হবে, যাতে কেউ বেড়া টপকে ঢুকতে না পারে।

একই সঙ্গে ভোটপ্রক্রিয়ায় নজরদারি বাড়াতে সংবেদনশীল বুথে (Sensitive Booth) তিনটি এবং অন্যান্য বুথে (Non-sensitive Booth) দুটি করে ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংবেদনশীল বুথে দুটি ক্যামেরা বুথের ভিতরে এবং একটি বাইরে থাকবে। অন্য বুথে একটি ভিতরে ও একটি বাইরে বসানো হবে। এই ক্যামেরাগুলি জেলা নিয়ন্ত্রণকক্ষ এবং কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষে যুক্ত থাকবে।

এই ক্যামেরাগুলি এমন ভাবে বসানো হবে যাতে বুথের ভিতরের পুরো দৃশ্য নজরে রাখা যায়। সব ক্যামেরা জেলা ও কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষে যুক্ত থাকবে, যাতে কোনও অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

এছাড়া বুথস্তরের কর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের হাতে ভোটের স্লিপ পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনও অবস্থাতেই রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের দিয়ে এই কাজ করানো যাবে না বলে জানানো হয়েছে।

অতিরিক্ত ভাবে কেন্দ্রীয় বাহিনী (CAPF)-র দ্রুত প্রতিক্রিয়া দলের যানবাহনে জিপিএস বসানো হচ্ছে, যাতে তাদের চলাচল নিয়মিত নজরে রাখা যায়। অতীতে বাহিনীর সঠিক ব্যবহার না হওয়ার অভিযোগ মাথায় রেখেই এই পদক্ষেপ বলে জানা গিয়েছে।

নির্বাচনের সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের নিরপেক্ষতা বজায় রাখার জন্যও কড়া নির্দেশ জারি হয়েছে। কোনও রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে খাবার বা সাহায্য নেওয়া যাবে না।

উল্লেখ্য, এ বার রাজ্যে দুই দফায় ভোটগ্রহণ হবে ২৩ ও ২৯ এপ্রিল। ফল ঘোষণা হবে ৪ মে।

Related posts

Leave a Comment