নয়াদিল্লি— ১৫ বছরের বৈভব সূর্যবংশীকে নিয়ে কৌতূহলের শেষ নেই। আইপিএলে ব্যাট হাতে ঝড় তোলার পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও অভিষেক হয়ে গিয়েছে এই তরুণের। কিন্তু আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে একটিও ম্যাচে প্রথম একাদশে জায়গা হয়নি তাঁর। কেন খেলানো হল না বৈভবকে? সিরিজ ৩-০ জেতার পর সেই প্রশ্নেরই সোজাসাপ্টা জবাব দিলেন ভারতীয় দলের কোচ গৌতম গম্ভীর।
গম্ভীরের বক্তব্য, বৈভবের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে তাঁর পরিষ্কার কথা হয়েছে। আপাতত সুযোগের জন্য অপেক্ষা করতে হবে তরুণ ওপেনারকে। কারণ, দীর্ঘ সময় ধরে ধারাবাহিক ভাবে পারফর্ম করে আসা ক্রিকেটারদেরই আগে সুযোগ দেওয়া হবে।
গম্ভীর বলেন, ‘বৈভবের সঙ্গে খুব পরিষ্কার কথা হয়েছে—ওকে ওর সুযোগের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। আমরা জানি ওর মধ্যে কী ধরনের প্রতিভা রয়েছে এবং ও কী করতে পারে। কিন্তু যে ক্রিকেটার গত দু’-তিন বছর ধরে ধারাবাহিক ভাবে পারফর্ম করছে, সে সব সময় এমন একজনের আগে থাকবে, যে সবে দলে এসেছে।’
তবে সুযোগ এলে বৈভবকে যথেষ্ট সময় দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন ভারতীয় কোচ। তাঁর কথায়, একবার প্রথম একাদশে জায়গা পেলে তাঁকে দীর্ঘ সময়ের জন্য সুযোগ দেওয়া হবে। গম্ভীরের মতে, ভারতীয় দলে প্রতিযোগিতা ও প্রতিভা—দু’টিই প্রয়োজন। বয়স এখানে কোনও বিষয় নয়।
গম্ভীর বলেন, ‘যখন ওর সুযোগ আসবে, তখন ওকে দীর্ঘ সময়ের জন্য সুযোগ দেওয়া হবে। ভারতীয় ক্রিকেটে আমরা দলে প্রতিযোগিতা এবং প্রতিভা চাই। কিন্তু ক্রিকেট এমনই। আপনি ১৫ বছরের হন বা ৩০ বছরের, সুযোগের জন্য অপেক্ষা করতে হলে অপেক্ষা করতেই হবে।’
আফগানিস্তান সিরিজে বৈভবের জায়গায় ওপেনিংয়ে দেখা গিয়েছে সঞ্জু স্যামসন ও অভিষেক শর্মাকে। শেষ ম্যাচে সঞ্জু ৩৫ বলে ৫০ রান করেন। তিন ম্যাচের সিরিজে তাঁর মোট রান ১১৭। অন্য দিকে দিল্লিতে সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে অভিষেক মাত্র ৩৪ বলে ১০৮ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন। তাঁর ব্যাটে ভর করে ভারত ২২১/৭ রান তোলে এবং ম্যাচটি ১২৭ রানে জিতে নেয়।
সঞ্জুকে নিয়েও অবশ্য প্রশ্ন উঠেছিল। ইংল্যান্ড সিরিজে তাঁকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত যে সহজ ছিল না, সেটাও স্বীকার করে নিয়েছেন গম্ভীর। তাঁর মতে, সঞ্জুর প্রতিভাই তাঁকে দলে রাখার যথেষ্ট কারণ।
গম্ভীর বলেন, ‘সঞ্জুর প্রতিভাই ওর দলে থাকার জন্য যথেষ্ট। ও কী করতে পারে, সেটা ও দেখিয়েছে। কোনও ক্রিকেটার সেই প্রতিভা ছাড়া বিশ্বকাপে টুর্নামেন্টের সেরা হতে পারে না। ও যথেষ্ট করেছে।’
ইংল্যান্ড সিরিজে সঞ্জুকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে নিজের কোচিং জীবনের অন্যতম কঠিন সিদ্ধান্ত বলেও জানিয়েছেন গম্ভীর। তাঁর কথায়, এর আগে সঞ্জু যে ভাবে পারফর্ম করেছিলেন, তা বিবেচনা করলে সিদ্ধান্ত নেওয়া সত্যিই কঠিন ছিল।
তবে পরে তাঁকে কেন দলে ফেরানো হল, তারও ব্যাখ্যা দিয়েছেন গম্ভীর। ভারতীয় কোচ জানিয়েছেন, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যে কম্বিনেশন নিয়ে ভারত সাফল্য পেয়েছিল, সেই কম্বিনেশনে ফেরার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত। কয়েকটি ম্যাচে ব্যর্থ হলেই কোনও ক্রিকেটারকে খারাপ খেলোয়াড় বলে দেওয়ার পক্ষপাতী নন তিনি।
গম্ভীরের বক্তব্য, ‘এই সিরিজে শুরু থেকেই আমরা পরিষ্কার ছিলাম যে বিশ্বকাপে যে কম্বিনেশন নিয়ে খেলেছিলাম, সেটাতেই ফিরতে চাই। কারণ, তিন-চারটি ম্যাচে ব্যর্থ হলেই এই ক্রিকেটাররা খারাপ খেলোয়াড় হয়ে যায় না।’
তিনি আরও বলেন, ‘একটি দল যদি একটি বিশ্বকাপ থেকে পরের বিশ্বকাপ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে বিশ্বকাপ জেতে, তা হলে সেটা খুব শক্তিশালী দল। হঠাৎ দু-একটি সিরিজের পরে সেই দল খারাপ হয়ে যায় না। দু’-তিনটি ব্যর্থতার পরে এই ক্রিকেটাররাও খারাপ খেলোয়াড় হয়ে যায় না।
আফগানিস্তানকে ৩-০ হারানোর পর এবার ভারতের সামনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের ওয়ান ডে সিরিজ। এশিয়ান গেমসের কারণে কয়েক জন নিয়মিত ক্রিকেটার দলে না থাকায় এই সিরিজে তরুণদের সামনে নিজেদের প্রমাণ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। অকিব নবি ও নমন ধীরের মতো ক্রিকেটারদের জন্যও এই সিরিজ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে বলে জানিয়েছেন গম্ভীর।
অর্থাৎ বৈভব সূর্যবংশীর জন্য জাতীয় দলের দরজা বন্ধ নয়। গম্ভীরের বার্তা স্পষ্ট—প্রতিভা নিয়ে কোনও সংশয় নেই, তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের পরবর্তী সুযোগের জন্য অপেক্ষা করতে হবে তাঁকে। সেই অপেক্ষার মধ্যেই এশিয়ান গেমসেও ভারতীয় জার্সিতে নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ রয়েছে ১৫ বছরের এই তরুণের সামনে।
