সংবাদ কলকাতা: নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনের আগে তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও প্রতীক নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন। ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং দলের সংরক্ষিত ‘জোড়া ঘাসফুল’ প্রতীক আপাতত ‘ফ্রিজ’ করার পর শুক্রবার দুই গোষ্ঠীর জন্য পৃথক নাম ও প্রতীক বরাদ্দ করল কমিশন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী এবার ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নামে এবং ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ প্রতীকে লড়বে। অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-অরূপ রায় নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীকে দেওয়া হয়েছে ‘ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘খাম’ প্রতীক।
বৃহস্পতিবার অন্তর্বর্তী নির্দেশে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছিল, নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের ৬ অক্টোবরের উপনির্বাচনে কোনও গোষ্ঠীই ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম বা দলের পুরনো ‘জোড়া ঘাসফুল’ প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না। কমিশনের বক্তব্য ছিল, দুই পক্ষই নিজেদের আসল তৃণমূল কংগ্রেস বলে দাবি করায় এই মুহূর্তে দলের নাম ও সংরক্ষিত প্রতীকের অধিকার নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। তাই উপনির্বাচন পর্যন্ত দুই গোষ্ঠীকে পৃথক নাম ও প্রতীকে লড়ার ব্যবস্থা করা হয়।

এর পরেই শুক্রবার সকাল ১১টার মধ্যে দুই গোষ্ঠীকে পছন্দের তিনটি নাম এবং তিনটি করে অবাধ প্রতীকের তালিকা জমা দিতে বলা হয়েছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির রাতেই ইমেলের মাধ্যমে তাদের প্রস্তাব কমিশনের কাছে পাঠায় বলে জানা যায়। পরে সেই তালিকা থেকেই ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ প্রতীক বরাদ্দ করা হয়।
অন্যদিকে ঋতব্রত শিবিরের তরফে ‘তৃণমূল’ শব্দটি নামের মধ্যে রাখার বিষয়ে আগেই আলোচনা হয়েছিল। দলীয় সূত্রের খবর, তাদের প্রস্তাবিত নামের তালিকায় ‘ন্যাশনালিস্ট তৃণমূল কংগ্রেস’, ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং ‘ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূল কংগ্রেস’ ছিল। শেষ পর্যন্ত কমিশন ‘ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূল কংগ্রেস’ নামটি অনুমোদন করে এবং ‘খাম’ প্রতীক বরাদ্দ করে।
নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচনে দুই গোষ্ঠীর প্রার্থীদের জন্য নাম ও প্রতীকের জটিলতাও আপাতত মিটল। দুই পক্ষই আগে ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’-এর প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছিল। কমিশনের নতুন নির্দেশের পর সেই মনোনয়নগুলিকে সংশ্লিষ্ট নতুন নাম ও প্রতীকের সঙ্গে যুক্ত করে দেখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই নতুন নাম ও প্রতীকের ব্যবস্থা আপাতত উপনির্বাচনকে সামনে রেখে করা হয়েছে। মূল দলের নাম ও সংরক্ষিত প্রতীকের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও আলাদা প্রক্রিয়ার বিষয়। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, বিষয়টি নির্বাচন প্রতীক সংক্রান্ত বিধির ১৫ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে বিস্তারিত ভাবে বিবেচনা করা হবে।এই পরিস্থিতির মধ্যেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় সামাজিক মাধ্যমে একটি তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন।
তিনি লেখেন, ‘রাজনীতি একটি স্থায়ী লড়াই; এখানে প্রতি ঘণ্টা, প্রতি মিনিট, প্রতি সেকেন্ডে যুদ্ধ—এমন এক যুদ্ধ, যেখানে স্বার্থ, প্রয়োজন এবং অগ্রাধিকার রোজ বদলে যায়। ভারতের সংবিধানে গণতন্ত্রের চিরন্তন আদর্শ ও মূল্যবোধ দীর্ঘজীবী হোক।’

অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের পর সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষও সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে দুই গোষ্ঠীকে কটাক্ষ করেছেন। চপ্পল ও বালিশের ছবি দিয়ে তিনি লেখেন, ‘সুখবর! নির্বাচন কমিশন অনুমোদিত প্রতীকের তালিকায় এই দুটো বিকল্পই রয়েছে। ঋত তৃণমূলী ও মৃত তৃণমূলীরা সত্ত্বর যোগাযোগ করুন।’
ফলে ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের ভোটে আর একই নাম ও ‘জোড়া ঘাসফুল’ প্রতীক দেখা যাবে না। একদিকে ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’-এর ফুটবল খেলোয়াড়, অন্যদিকে ‘ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূল কংগ্রেস’-এর খাম—এই দুই নতুন পরিচয়েই উপনির্বাচনের ময়দানে মুখোমুখি হবে দুই গোষ্ঠী।
