মুর্শিদাবাদ, ২৭ অক্টোবর— সামশেরগঞ্জে সুজিত মণ্ডল খুনের মামলায় ধৃত সামাউন শেখের মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মঙ্গলবার ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য তাঁকে পুরাতন ডাকবাংলা এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পুলিশের দাবি, সেখানে এক পুলিশকর্মীর আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন সামাউন এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে তিন রাউন্ড গুলি চালান। পাল্টা গুলিতে জখম হওয়ার পর জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। এ দিনই উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটায় ধর্ষণ-খুনের মামলায় অভিযুক্ত আর এক যুবকেরও পুলিশি গুলিতে মৃত্যুর খবর এসেছে।
জঙ্গিপুর পুলিশ জেলার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, সুজিত খুনের তদন্ত করছিল রাজ্য সিআইডি। মঙ্গলবার পুনর্নির্মাণ চলাকালীন গুলি চলার ঘটনা ঘটে। পরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা সামাউনকে মৃত ঘোষণা করেন। এই মুহূর্তে এর বেশি কিছু বলা সম্ভব নয় বলে জানান তিনি।
গত ২৮ আগস্ট সামশেরগঞ্জের পুরাতন ডাকবাংলা এলাকার বাসিন্দা সুজিত মণ্ডল নিখোঁজ হয়ে যান। পরে তাঁর খণ্ডবিখণ্ড দেহ উদ্ধার হয়। এই ঘটনায় সামিউল শেখ, তাজকিরা বিবি ও জনি শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ধৃতদের মধ্যে সামাউনের মৃত্যুতে মামলাটি নতুন পর্যায়ে পৌঁছল।
সুজিতের স্ত্রী সুমনা মণ্ডল স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়িতে বারবার সাহায্য চেয়েও পাননি বলে অভিযোগ ওঠার পর পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘটনাটিকে পুলিশের ‘বড় ত্রুটি’ বলে মন্তব্য করেন। এরপর দুই পুলিশকর্মীকে সাসপেন্ড করা হয়, সামশেরগঞ্জ থানার আইসিকে লাইনে ক্লোজ় করে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয় এবং ফরাক্কার এসডিপিওকে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়। জঙ্গিপুরের এসপিকেও শো-কজ় করা হয়েছিল।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দুপুর ২টো ৪৫ মিনিট নাগাদ পুনর্নির্মাণের সময় ধস্তাধস্তি হয়। তদন্তকারী দলে ইনস্পেক্টর অক্ষয় পাল ও ইনস্পেক্টর খালেকুজ্জামান ছিলেন। পুলিশের অভিযোগ, ওই সময় সামাউন আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে গুলি চালান।
অন্যদিকে, গাইঘাটার ঘটনায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধেও পুলিশের আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে পালানো এবং তিন রাউন্ড গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে। পুলিশের পাল্টা গুলিতে তাঁর মৃত্যু হয় বলে দাবি। দুই ঘটনারই পূর্ণাঙ্গ বিবরণ ও পরিস্থিতি তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
previous post
