সংবাদ কলকাতা: টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বিরল কীর্তি গড়লেন দক্ষিণ আফ্রিকার বোলার শাদ লেকক। এক ওভারে পাঁচটি উইকেট তুলে নিয়ে নজর কাড়লেন তিনি। তার মধ্যে পর পর চারটি বলে চারটি উইকেট নেন এই বোলার। দক্ষিণ আফ্রিকার ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতা সিএসএ প্রোটি২০ কাপে কেজ়েডএন ইনল্যান্ড ও টাইটান্সের ম্যাচে এই নজির গড়েছেন লেকক। তাঁর বিধ্বংসী বোলিংয়ের সুবাদে টাইটান্সের ইনিংস থেমে যায় ২০৪ রানে।
চার ওভার বল করে ২৬ রান দিয়ে ছ’টি উইকেট নেন লেকক। ইনিংসের ১৯তম ওভারে তাঁর এই অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স ম্যাচের অন্যতম আলোচ্য বিষয় হয়ে ওঠে। প্রথমে লিউস দু প্লয়কে আউট করেন তিনি। তার পর একে একে ফিরিয়ে দেন দায়ান গালিয়েম, আফিওয়ে মিয়ান্দা, জানকো স্মিট এবং এসোসা আইভেবাকে। পর পর চার বলে চার উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি একই ওভারে মোট পাঁচটি উইকেট তুলে নিয়ে ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নিজের নাম স্মরণীয় করে রাখলেন লেকক।
লেককের এই কীর্তি আরও তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ চার বলে চার উইকেট নেওয়ার নজির আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আগেও দেখা গিয়েছে। শ্রীলঙ্কার লাসিথ মালিঙ্গা, আফগানিস্তানের রশিদ খান, আয়ারল্যান্ডের কার্টিস ক্যাম্ফার এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের জেসন হোল্ডার এই বিরল কৃতিত্ব অর্জন করেছেন। তবে সিএসএ প্রোটি২০ কাপে লেককের ছ’টি উইকেট নেওয়া এখনও পর্যন্ত প্রতিযোগিতার সেরা বোলিং পারফরম্যান্স বলে জানানো হয়েছে।
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এক ওভারে পাঁচ উইকেট নেওয়ার ঘটনাও আগে ঘটেছে। ২০১৩-১৪ মরসুমে বাংলাদেশের আল আমিন হোসেন প্রথম এই নজির গড়েছিলেন। আবাহনী লিমিটেডের বিরুদ্ধে খেলতে নেমে এই কীর্তি গড়েন তিনি। পরে ভারতের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতা সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফিতে কর্নাটকের অভিমন্যু মিঠুন হরিয়ানার বিরুদ্ধে এক ওভারে পাঁচ উইকেট নেন।
গত বছরও এমন নজির দেখা যায়। ইন্দোনেশিয়ার বোলার গেদে প্রিয়ান্দানা কম্বোডিয়ার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচে এক ওভারে পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এখনও পর্যন্ত তিনিই এই কীর্তি গড়া একমাত্র বোলার বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বার সেই তালিকায় নতুন সংযোজন শাদ লেকক। টাইটান্সের ইনিংসের শেষ দিকে তাঁর বিধ্বংসী বোলিং ম্যাচের গতিপথে বড় প্রভাব ফেলে। এক ওভারে পাঁচ উইকেট হারিয়ে দ্রুত ধাক্কা খায় টাইটান্স। চার ওভারে ২৬ রান দিয়ে ছ’টি উইকেট নেওয়ার সুবাদে দক্ষিণ আফ্রিকার এই বোলার ঘরোয়া ক্রিকেটে বিরল কৃতিত্বের অধিকারী হলেন।
previous post
