October 31, 2026
খেলা

মেয়েদের জন্য আলাদা টি-টোয়েন্টি দল গড়তে চান অমল

মুম্বাই— টেস্ট ও এক দিনের ক্রিকেটে ভারতীয় মহিলা দলের সাফল্য থাকলেও টি-টোয়েন্টিতে এখনও প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। ২০২৪ ও ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে ভারতকে। সেই ব্যর্থতা কাটিয়ে ছোট ফরম্যাটে বিশ্বক্রিকেটে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে এবার আলাদা টি-টোয়েন্টি দল তৈরির পরিকল্পনা করছেন ভারতীয় মহিলা দলের প্রধান কোচ অমল মুজুমদার। তাঁর লক্ষ্য, এই ফরম্যাটের জন্য বিশেষ ভাবে তৈরি ক্রিকেটারদের নিয়ে আরও আক্রমণাত্মক ও শক্তিশালী দল গড়ে তোলা।

শনিবার মুম্বাইয়ে এক অনুষ্ঠানে ভারতীয় দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মুখ খোলেন অমল। তাঁর বক্তব্য, গত দু’বছরে ভারতীয় মহিলা দলের পারফরম্যান্সে উন্নতি হয়েছে। তবে শুধু ভাল খেলা নয়, বিশ্বক্রিকেটে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করাই এখন দলের লক্ষ্য। সেই জন্য মাঠে আরও আগ্রাসী ও নির্ভীক ক্রিকেট খেলতে হবে। অমলের কথায়, দলের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই আধিপত্য বিস্তারের মানসিকতা তৈরি করার চেষ্টা চলছে।

টি-টোয়েন্টির জন্য বিশেষজ্ঞ ক্রিকেটার তৈরির পরিকল্পনা নিয়ে কোচ জানান, সেই প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। বেঙ্গালুরুর জাতীয় ক্রিকেট উৎকর্ষ কেন্দ্রে অনূর্ধ্ব-১৫, অনূর্ধ্ব-১৯ এবং ভারতীয় ‘এ’ দলের শিবিরে বেশ কিছু প্রতিভাবান ক্রিকেটারকে দেখা যাচ্ছে। তাঁদের দক্ষতা ও প্রস্তুতি দেখে ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী তিনি।

নতুন প্রজন্মের ক্রিকেটারদের পেশাদার মানসিকতারও প্রশংসা করেছেন অমল। তাঁর মতে, এখনকার তরুণীরা অনেক কম বয়স থেকেই ফিটনেস, পুষ্টি, ডায়েট এবং শারীরিক সক্ষমতার গুরুত্ব বুঝতে শিখেছে। মাঠে ভাল পারফরম্যান্সের পাশাপাশি নিজেদের অ্যাথলেটিক দক্ষতা বাড়ানোর দিকেও তারা যথেষ্ট মনোযোগী। ফলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের চাহিদার সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার মতো প্রতিভা তৈরি হচ্ছে।


টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের দ্রুত পরিবর্তনের কথাও মাথায় রাখছেন ভারতীয় দলের কোচ। তাঁর মতে, বর্তমানে ক্রিকেটারদের সারা বছরই একাধিক ফরম্যাটে খেলতে হয়। ফলে শারীরিক ও মানসিক ধকলের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। সেই কারণেই টেস্ট ও এক দিনের ক্রিকেটের নিয়মিত খেলোয়াড়দের উপর সব ফরম্যাটের অতিরিক্ত চাপ না দিয়ে টি-টোয়েন্টির জন্য বিশেষজ্ঞ ক্রিকেটার তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে ঘরের মাঠে প্রথম বার মহিলাদের এক দিনের বিশ্বকাপ জিতেছিল ভারত। অন্য দিকে, শেষ পাঁচটি টেস্টের মধ্যে চারটিতে জয় পেয়েছে দল। কিন্তু টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মঞ্চে ২০২৪ ও ২০২৬— দুই বারই গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিতে হয়েছে। ফলে ছোট ফরম্যাটে নতুন করে দল সাজানোর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন কোচ।

অমলের আশা, বয়সভিত্তিক ক্রিকেট থেকে উঠে আসা নতুন প্রতিভারা দ্রুত সিনিয়র দলে জায়গা করে নেবে। আগামী দু’বছরের মধ্যে ভারতীয় মহিলা দল সাদা বলের ক্রিকেটে বিশ্বক্রিকেটের অন্যতম শক্তিশালী দল হয়ে উঠুক, সেটাই তাঁর লক্ষ্য। টি-টোয়েন্টির জন্য বিশেষজ্ঞ দল তৈরির পরিকল্পনা সেই বৃহত্তর লক্ষ্যেরই অংশ।

Related posts

Leave a Comment