May 14, 2026
কলকাতা

জমি দখল থেকে বালি পাচার, একাধিক অভিযোগে ইডির জেরার মুখে ডিসিপি শান্তনু

কলকাতা: একাধিকবার তলবের পর অবশেষে ইডি দপ্তরে হাজিরা দিলেন কলকাতা পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের ডেপুটি কমিশনার শান্তনু সিনহা বিশ্বাস। বৃহস্পতিবার সকালে তিনি সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে পৌঁছন। বর্তমানে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। জমি দখল, তোলাবাজি, বালি পাচার এবং অর্থ তছরুপ সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগে তাঁর নাম উঠে আসায় তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।

তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, কসবার কুখ্যাত দুষ্কৃতী সোনা পাপ্পুর সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ উঠেছে ডিসিপি শান্তনুর বিরুদ্ধে। সোনা পাপ্পুর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই জমি দখল, তোলাবাজি এবং বেআইনি কারবারের অভিযোগ রয়েছে। সেই সমস্ত কর্মকাণ্ডে কোনওভাবে পুলিশ আধিকারিকের ভূমিকা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন ইডি আধিকারিকরা।

তদন্তকারীদের দাবি, সোনা পাপ্পুর বাড়ি থেকে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায়ও শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের নাম উঠে এসেছে তদন্তে। পাশাপাশি বালি পাচার চক্রের সঙ্গেও তাঁর যোগাযোগ ছিল কি না, সেই দিকও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একাধিক আর্থিক লেনদেনের নথি এবং সম্পত্তি সংক্রান্ত তথ্য নিয়েও তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।

এর আগে ভোটের ঠিক আগে বালিগঞ্জের ফার্ন রোডে শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের বাড়িতে তল্লাশি চালায় ইডি। গভীর রাত পর্যন্ত চলে সেই অভিযান। তল্লাশির পরদিনই তাঁর দুই ছেলে সায়ন্তন এবং মণীশকে সিজিও কমপ্লেক্সে তলব করা হয়েছিল। যদিও সেদিন কেউ হাজিরা দেননি।

পরে একাধিকবার নোটিস পাঠানো হলেও কাজের ব্যস্ততার কারণ দেখিয়ে হাজিরা এড়িয়ে যান ডিসিপি শান্তনু। এরপরই তাঁর বিরুদ্ধে লুক আউট নোটিস জারি করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। শেষপর্যন্ত বৃহস্পতিবার ইডি দপ্তরে গিয়ে তদন্তে সহযোগিতা শুরু করেন তিনি।

প্রশাসনিক মহলে এই ঘটনাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কলকাতা পুলিশের একজন উচ্চপদস্থ আধিকারিককে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হওয়ায় নতুন করে রাজনৈতিক চর্চাও শুরু হয়েছে।

এদিকে সিজিও কমপ্লেক্স চত্বরে সকাল থেকেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। সংবাদমাধ্যমের ভিড়ও ছিল চোখে পড়ার মতো। যদিও ইডি দপ্তরে ঢোকার সময় কোনও মন্তব্য করেননি শান্তনু সিনহা বিশ্বাস।

তদন্তকারীদের মতে, এই মামলায় আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে। ফলে আগামী দিনে তদন্তের গতি আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।

Related posts

Leave a Comment