নিজস্ব সংবাদদাতা, পশ্চিম মেদিনীপুর—ভারী বৃষ্টিতে পশ্চিম মেদিনীপুরের সবং-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কেলেঘাই-সহ একাধিক নদীর জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় বহু এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে সবংয়ে গিয়ে আকাশপথে প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পরে প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে দুর্গত মানুষের কাছে দ্রুত ত্রাণ ও প্রয়োজনীয় পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে বিস্তারিত পর্যালোচনাও করেন মুখ্যমন্ত্রী।
সবংয়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও যথেষ্ট বেশি। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, বন্যার জেরে এখনও পর্যন্ত দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের পরিবারকে ৯ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি, শুধুমাত্র সবং ব্লকেই প্রায় ৩২০০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রশাসনিক পর্যালোচনায় উঠে এসেছে। ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারকে ৩০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
টানা বৃষ্টির জেরে কেলেঘাই-সহ একাধিক নদীর জলস্তর বিপদসীমা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। কোথাও কোথাও জলস্তর চরম বিপদসীমাতেও পৌঁছে যায়। নদীর জল উপচে ঢুকে পড়ে জনবসতিতে। বহু মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে ত্রাণশিবিরে রাখা হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, বর্তমানে কেলেঘাইয়ের জলস্তর বিপদসীমার নীচে নেমেছে। পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হওয়ায় ত্রাণশিবিরে থাকা মানুষদের পাঁচ দিনের রেশন দিয়ে বাড়ি ফেরানো হয়েছে।
জলবন্দি পরিবারগুলির কাছে খাবার ও পানীয় জল পৌঁছে দিতে পুলিশকেও অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর নির্দেশ, প্রয়োজন অনুযায়ী বাড়ি বাড়ি গিয়ে রেশন এবং ২০ লিটারের পানীয় জলের জার পৌঁছে দিতে হবে। আকাশপথে সবংয়ের পাঁচটি গ্রাম পঞ্চায়েতের পরিস্থিতিও পরিদর্শন করেন তিনি।
বন্যার পাশাপাশি সাপের কামড়ের ঘটনাও প্রশাসনের কাছে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ইতিমধ্যে সাপে কাটার ১০টি ঘটনা সামনে এসেছে। প্রত্যেক আক্রান্তকে চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ করে তোলা সম্ভব হয়েছে। স্বাস্থ্য দপ্তরের কাজেরও প্রশংসা করেন তিনি।

কৃষকদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার থেকেই প্রধানমন্ত্রী শস্যবিমার শিবির শুরু হয়েছে। ধানচাষিরা সেখানে নিজেদের নাম নথিভুক্ত করতে পারবেন। মাদুরকাঠি শস্যবিমার আওতায় না থাকায় সংশ্লিষ্ট কৃষকদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
বন্যা পরিস্থিতির সম্পূর্ণ উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসনকে এলাকায় থেকে কাজ করার নির্দেশও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী রাজেশ মাহাতোকে সবংয়ে রেখে যাওয়া হয়েছে। তিনি আরও দু’দিন এলাকায় থেকে ত্রাণ, পুনর্বাসন এবং শস্যবিমার তালিকা তৈরির কাজ তদারকি করবেন।
প্রশাসনের লক্ষ্য এখন জলবন্দি পরিবারগুলিকে দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা। ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি, কৃষিজমি এবং অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতির হিসাব তৈরি করে প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কাজও চলবে।
