কোয়েম্বত্তূর— সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে হানিট্র্যাপের ফাঁদে ফেলে এক ভারতীয় নৌসেনাকর্মীর কাছ থেকে সংবেদনশীল প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ উঠেছে পাকিস্তানি গোয়েন্দা চক্রের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা ৩১ বছরের নৌসেনাকর্মী প্রদীপ মুখোপাধ্যায়কে গ্রেপ্তার করেছে অন্ধ্রপ্রদেশ পুলিশের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স শাখা। ৩ অক্টোবর কোয়েম্বত্তূরের আইএনএস অগ্রণী প্রশিক্ষণকেন্দ্র থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্তকারী সূত্রের দাবি, প্রদীপ ২০১৪ সালে ভারতীয় নৌসেনায় যোগ দেন। বর্তমানে তিনি বিশাখাপত্তনমে পূর্ব নৌ কমান্ডের অধীনে কর্মরত ছিলেন। সম্প্রতি প্রায় এক সপ্তাহের জন্য কোয়েম্বত্তূরের আইএনএস অগ্রণীতে ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন সংক্রান্ত প্রশিক্ষণে গিয়েছিলেন। সেই সময়ই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযোগ, কয়েক মাস আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক মহিলার সঙ্গে প্রদীপের পরিচয় হয়। তদন্তকারীদের সন্দেহ, ওই মহিলা পাকিস্তানি গোয়েন্দা চক্রের সঙ্গে যুক্ত এবং ভুয়ো পরিচয়ে প্রদীপের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। ধীরে ধীরে অনলাইনে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করে তাঁর আস্থা অর্জনের পর সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ।
কী ধরনের তথ্য পাচারের অভিযোগ?
তদন্তকারী সূত্রের দাবি, বিশাখাপত্তনমের নৌঘাঁটি সংক্রান্ত কৌশলগত নৌসম্পদ, নৌবহরের গতিবিধি এবং পরিচালন ব্যবস্থা সম্পর্কে সংবেদনশীল তথ্য ওই যোগাযোগের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়ে থাকতে পারে। তবে ঠিক কতটা তথ্য এবং কোন কোন নথি বা তথ্য অন্য পক্ষের কাছে পৌঁছেছে, তা এখনও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
অন্ধ্রপ্রদেশ পুলিশের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স শাখা সীমান্তপারের গুপ্তচরবৃত্তি এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত হুমকির বিষয়ে নজরদারি চালায়। তদন্তকারীদের দাবি, প্রদীপের সঙ্গে যুক্ত সন্দেহজনক ডিজিটাল গতিবিধি নজরে আসার পর তাঁর উপর নজরদারি শুরু করা হয়। পরে নৌ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়।
গ্রেপ্তারের পর তাঁকে স্থানীয় আদালতে পেশ করা হয়। এরপর আরও তদন্তের জন্য তাঁকে বিজয়ওয়াড়ায় কাউন্টার ইন্টেলিজেন্সের সদর দপ্তরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, তথ্য পাচারের বিনিময়ে কোনও আর্থিক লেনদেন হয়েছিল কি না এবং এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না।
তবে তদন্ত এখনও চলছে। ফলে প্রদীপ মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পূর্ণ সত্যতা এবং পাচার হওয়া তথ্যের প্রকৃত পরিমাণ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
Category: India / Defence
