31.5 C
Kolkata
June 18, 2026
দেশ

বিকশিত ভারত রোজগার যোজনায় ২,৪০০ কোটি টাকা বিতরণ করবেন মোদী

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

দিল্লি— দেশের কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে আরও গতি আনতে বিকশিত ভারত রোজগার যোজনার আওতায় প্রায় ২,৪০০ কোটি টাকার প্রণোদনা বিতরণ করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আগামী ১৯ জুন আয়োজিত একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে এই অর্থ বিতরণ করা হবে বলে বুধবার জানানো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটি চালু হওয়ার পর থেকে ইতিমধ্যেই সারা দেশে প্রায় ১৫ লক্ষ নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। সংগঠিত ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মী ও নিয়োগকর্তা— উভয়কেই উৎসাহিত করাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।

প্রকল্পের আওতায় প্রথমবার কর্মজীবনে প্রবেশ করা কর্মীরা সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত প্রণোদনা পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। কর্মজীবনের শুরুতে এই আর্থিক সহায়তা তাঁদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগ করলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলিও আর্থিক সুবিধা পাবে। প্রতিটি নতুন কর্মীর জন্য প্রতি মাসে সর্বোচ্চ ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত প্রণোদনা দেওয়া হবে নিয়োগকর্তাদের। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদে নতুন কর্মসংস্থান তৈরিতে উৎসাহ বাড়বে বলে কেন্দ্রের আশা।

উৎপাদন শিল্পকে দেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সেই কারণে উৎপাদন ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান বাড়ালে নিয়োগকর্তাদের জন্য চার বছর পর্যন্ত প্রণোদনার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। অন্যান্য ক্ষেত্রে এই সুবিধা দুই বছর পর্যন্ত মিলবে।

কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য, অর্থনৈতিক সম্প্রসারণের সুফল যাতে সরাসরি কর্মসংস্থানে প্রতিফলিত হয় এবং যুবসমাজের জন্য মানসম্পন্ন চাকরির সুযোগ তৈরি হয়, সেই লক্ষ্য নিয়েই এই প্রকল্প চালু করা হয়েছে।

মোট ৯৯ হাজার ৪৪৬ কোটি টাকার বরাদ্দ নিয়ে ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে প্রকল্পটি কার্যকর হয়। আগামী দুই বছরে ৩.৫ কোটিরও বেশি নতুন কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, সম্ভাব্য উপভোক্তাদের মধ্যে প্রায় ১.৯২ কোটি মানুষ প্রথমবার কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করবেন। ফলে সংগঠিত কর্মসংস্থানের পরিধি বাড়ানোর ক্ষেত্রে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

কেন্দ্রের মতে, এই উদ্যোগ শুধু কর্মসংস্থানই বাড়াবে না, সামাজিক সুরক্ষার আওতাও আরও বিস্তৃত করবে। একই সঙ্গে বিকশিত ভারতের লক্ষ্যে পৌঁছতে কর্মী ও নিয়োগকর্তা— উভয় পক্ষকেই শক্তিশালী ভিত্তি দেবে এই প্রকল্প।

Related posts

Leave a Comment