27 C
Kolkata
October 12, 2026
দেশ বিদেশ

যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ বন্ধ, নতুন তিন জায়গা নির্ধারণ দিল্লি পুলিশের

নয়াদিল্লি— রাজধানীর যন্তর মন্তরে আর প্রতিবাদ কর্মসূচি করা যাবে না। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীন দিল্লি পুলিশের নতুন নির্দেশিকা ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। যন্তর মন্তরের পরিবর্তে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভের জন্য তিনটি জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে— রামলীলা ময়দান, বুরারি ময়দান এবং পূর্ব দিল্লির সিবিডি মাঠ। এই তিন জায়গায় কর্মসূচি করতে হলে অনুমতি নেওয়ার নিয়ম কী হবে, তা জানিয়ে শীঘ্রই পৃথক নির্দেশিকা প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

দিল্লি পুলিশ কমিশনার অনুরাগ কুমারের প্রকাশিত নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, একটি কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই প্রতিবাদস্থল হিসেবে যন্তর মন্তরের বদলে তিনটি জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। রবিবার নির্দেশিকাটি প্রকাশ করা হলেও সোমবার তা সামনে আসে। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণ এবং সরকারি দফতরের আশপাশে কর্মসূচি সংক্রান্ত পরিস্থিতি সামলানোর লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত বলে মনে করা হচ্ছে। তবে নির্দেশিকার পিছনে ঠিক কী কারণ রয়েছে, তা নিয়ে পুলিশের বিস্তারিত ব্যাখ্যা সামনে আসা বাকি।

নির্ধারিত তিনটি জায়গার মধ্যে পুরনো দিল্লিতে রয়েছে রামলীলা ময়দান, উত্তর দিল্লিতে বুরারি ময়দান এবং পূর্ব দিল্লিতে সিবিডি মাঠ। যন্তর মন্তর থেকে এই জায়গাগুলির দূরত্বও যথেষ্ট আলাদা। রামলীলা ময়দান প্রায় তিন কিলোমিটার, সিবিডি মাঠ প্রায় সাড়ে ১৩ কিলোমিটার এবং বুরারি ময়দান প্রায় ৪৪ কিলোমিটার দূরে। ফলে যন্তর মন্তরে কর্মসূচি করতে অভ্যস্ত রাজনৈতিক দল, সংগঠন ও প্রতিবাদকারীদের এবার অন্য জায়গায় যেতে হবে।

এই সিদ্ধান্ত সামনে এসেছে ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপির যন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অনুমতি চাওয়ার আবহে। সোমবার সকাল ১০টা নাগাদ দলের তিন শীর্ষ নেতা-নেত্রী দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় যান। মু

খ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে কর্মসূচি করতে চায় দলটি। পুলিশের অনুমতি না পেলে ফের বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হতে পারে বলেও আগেই জানিয়েছিলেন দলের মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা।

এর আগে যন্তর মন্তরে কর্মসূচি করতে গিয়ে সিজেপির নেতা-কর্মীদের আটক হওয়ার ঘটনা ঘিরেও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। পুলিশ জানিয়েছিল, ওই কর্মসূচির জন্য আগে থেকে অনুমতি চাওয়া হয়নি। এবার নতুন নির্দেশিকা প্রকাশ্যে আসায় যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ করার সুযোগ নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।

সিজেপি প্রধান অভিজীত দিপক এই সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় সমাজমাধ্যমে লেখেন, ‘যন্তর মন্তরে আর প্রতিবাদ করতে দেবে না ওরা। এটা এখন আর প্রতিবাদস্থল নয়। ভিতু একনায়কের কারণে তা যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল। এখন পুরো দেশ যন্তর মন্তর হবে।’ তাঁর এই মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট, দলের নেতৃত্ব বিষয়টিকে প্রতিবাদ করার অধিকার নিয়ে বিতর্কের অংশ হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে।

চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল দিল্লি পুলিশের একটি নির্দেশিকায় যন্তর মন্তরকেই প্রতিবাদস্থল হিসেবে নির্দিষ্ট করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এবার সেই নির্দেশিকায় পরিবর্তন আনা হল। যন্তর মন্তরের আশপাশে একাধিক সরকারি দফতর থাকায় নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার বিষয়টি এই সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে বিবেচনায় এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে নতুন ব্যবস্থার ফলে প্রতিবাদকারীদের অনুমতি পাওয়ার প্রক্রিয়া কতটা বদলাবে, তা স্পষ্ট হবে পৃথক নির্দেশিকা প্রকাশের পর।

এখন নজর, নতুন তিনটি জায়গায় বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে দিল্লি পুলিশ কী নিয়ম নির্ধারণ করে এবং সিজেপির প্রস্তাবিত কর্মসূচির বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়। যন্তর মন্তরে প্রতিবাদের দীর্ঘদিনের পরিচিত পরিসর বদলে যাওয়ায় রাজধানীর রাজনৈতিক কর্মসূচি ও নাগরিক প্রতিবাদের ধরনেও পরিবর্তন আসতে পারে।

Related posts

Leave a Comment