35.1 C
Kolkata
June 21, 2026
কলকাতা

গার্ডেনরিচে তিন অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ নৌসেনার হাতে তুলে দিলেন মোদী, আত্মনির্ভর ভারতের শক্তির বার্তা

কলকাতা — আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে রেড রোডে যোগাভ্যাসের কর্মসূচি শেষ করে সরাসরি গার্ডেনরিচে পৌঁছলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেখানেই গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্সে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত তিনটি অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় নৌসেনার হাতে তুলে দেন তিনি। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বন্দর সংলগ্ন অনুষ্ঠানে উদ্বোধন করা হয় আইএনএস দুনাগিরি, আইএনএস অগ্রয় এবং আইএনএস সংশোধককে।

যদিও এই তিন রণতরী মার্চ মাসেই নৌসেনার ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত হয়ে গিয়েছিল, বাকি ছিল শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন। আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের দিন সেই আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয় প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে।

উদ্বোধন হওয়া তিনটি যুদ্ধজাহাজের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে আইএনএস দুনাগিরি। অত্যাধুনিক স্টেল্থ প্রযুক্তিতে তৈরি এই ফাইটার ফ্রিগেট শত্রুপক্ষের রেডারকে ফাঁকি দিয়ে অভিযান চালাতে সক্ষম। সমুদ্রযুদ্ধে দ্রুত আঘাত হানার ক্ষমতা রয়েছে এই যুদ্ধজাহাজের।

অন্যদিকে আইএনএস অগ্রয় বিশেষভাবে তৈরি হয়েছে সাবমেরিন-বিরোধী অভিযানের জন্য। সমুদ্রের গভীরে লুকিয়ে থাকা শত্রুপক্ষের ডুবোজাহাজ শনাক্ত করে তা ধ্বংস করার ক্ষেত্রে এই রণতরী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে মনে করছে নৌবাহিনী।

আইএনএস সংশোধক একটি বৃহৎ সমুদ্র জরিপকারী জাহাজ। সমুদ্রতলের মানচিত্র তৈরি, নৌপথ নির্ধারণ এবং কৌশলগত তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে এই জাহাজ বিশেষ ভূমিকা পালন করবে। আধুনিক নজরদারি ও সমীক্ষা প্রযুক্তিতে সজ্জিত এই রণতরী ভারতীয় নৌসেনার সক্ষমতা আরও বাড়াবে বলে দাবি প্রতিরক্ষা মহলের।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, ‘আজ গোটা বিশ্ব আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালন করছে। এই বিশেষ দিনে পশ্চিমবঙ্গের পবিত্র ভূমিতে আসার সুযোগ পেয়েছি। বাংলা দেশের নবজাগরণের পথ দেখিয়েছে এবং সমুদ্রপথে বিশ্বের সঙ্গে ভারতের সংযোগ গড়ে তুলেছে।

’তিনি আরও বলেন, ‘নৌশক্তি ছাড়া কোনও দেশের শক্তিবৃদ্ধি সম্ভব নয়। আত্মনির্ভর ভারত গড়ার পথে নৌসেনার ক্ষমতা বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আইএনএস দুনাগিরি, আইএনএস অগ্রয় এবং আইএনএস সংশোধক সেই শক্তিকে আরও সুদৃঢ় করবে।’

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার উপর বিশেষ জোর দেন। তিনি বলেন, ‘এক সময় ভারতকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র বিদেশ থেকে আমদানি করতে হত। কিন্তু বর্তমানে দেশীয় প্রযুক্তিতে অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম নির্মাণে ভারত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখেই দেশকে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।’

সমুদ্র অর্থনীতি ও সামুদ্রিক পরিকাঠামো উন্নয়নেও কেন্দ্র সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, আগামী দিনে ভারত সমুদ্রশক্তি হিসেবে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এবং দেশীয় প্রযুক্তির উপর নির্ভর করেই সেই লক্ষ্য পূরণ করা হবে।

অনুষ্ঠানে নৌবাহিনীর শীর্ষ আধিকারিক, প্রতিরক্ষা দপ্তরের কর্তারা এবং বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন। দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত এই তিন যুদ্ধজাহাজ ভারতীয় নৌসেনার যুদ্ধক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ভারতের আত্মনির্ভরতার নতুন দৃষ্টান্ত হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

Related posts

Leave a Comment