August 4, 2026
কলকাতা

শর্বরীর পাশে অগ্নিমিত্রা, ‘মিথ্যা অভিযোগ করলে অভিযোগকারীর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা’

কলকাতা — বিজেপি বিধায়কদের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতি এবং তোলাবাজির অভিযোগের আবহে যাদবপুরের বিজেপি বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়ালেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁর দাবি, কোনও অভিযোগ উঠলেই সেটি সত্যি ধরে নেওয়া যায় না। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি, ব্যক্তিগত শত্রুতার কারণে কেউ মিথ্যা অভিযোগ করলে তাঁর বিরুদ্ধেও কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মন্ত্রী।

মঙ্গলবার বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অগ্নিমিত্রা বলেন, সম্প্রতি যাদবপুরের একটি দোকান দখলকে কেন্দ্র করে শর্বরী মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল। কিন্তু পরে জানা যায়, অভিযোগকারী ওই দোকানের প্রকৃত মালিক নন। তিনি বলেন, ‘শর্বরী প্রথম থেকেই বলেছিলেন, অভিযোগকারী অন্যের দোকান দখল করে রেখেছিলেন। পরে সেই তথ্যই সামনে এসেছে।’

মন্ত্রী জানান, রাজ্য সরকার বেআইনি তোলাবাজি, সিন্ডিকেট, অবৈধ টোল আদায় এবং মদের বেআইনি কারবার সংক্রান্ত অভিযোগ জানানোর জন্য চারটি হেল্পলাইন চালু করেছে। তবে সেই ব্যবস্থার অপব্যবহার করলেও রেহাই মিলবে না। তাঁর কথায়, ‘কেউ যদি ব্যক্তিগত আক্রোশে বা কাউকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে মিথ্যা অভিযোগ করেন, তা হলে অভিযোগকারীর নম্বরও আমাদের কাছে থাকবে। তদন্তে অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

অন্যদিকে, শর্বরীর বিরুদ্ধে অভিযোগে এখনও অনড় অভিযোগকারী প্রতিমা রায়। তাঁর দাবি, তিনি প্রায় ৩০ বছর ধরে ওই দোকান চালাচ্ছেন এবং বৈধ নথিও রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর ‘জনতার দরবার’-এ অভিযোগ জানিয়েও সমস্যার সমাধান না হওয়ায় তিনি আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। প্রতিমার অভিযোগ, স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি বিধায়ককে ভুল তথ্য দিয়েছেন।

যদিও শর্বরী মুখোপাধ্যায় শুরু থেকেই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তাঁর দাবি, প্রকৃত মালিকের আবেদনেই বিজেপি কর্মীরা দোকানটি দখলমুক্ত করতে সহায়তা করেছিলেন। অভিযোগকারীর সঙ্গে তাঁর কোনও ব্যক্তিগত বিরোধ নেই বলেও তিনি দাবি করেন।

এদিকে, বিজেপির একাংশের বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ নিয়েও চাপে রয়েছে রাজ্য নেতৃত্ব। সম্প্রতি অগ্নিমিত্রা পাল স্বীকার করেছিলেন, সরকারে আসার পর কিছু মানুষ ভুল পথে রোজগারের চেষ্টা করছেন। তবে রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এ বিষয়ে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি নিয়েছেন বলেও তিনি জানান।

এর আগে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য দলীয় কর্মীদের ১৫ দিনের মধ্যে নিজেদের শুধরে নেওয়ার বার্তা দিয়েছেন। একইভাবে পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষও জানিয়েছেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে কোনও নেতা বা কর্মীকেই রেয়াত করা হবে না।

Related posts

Leave a Comment