কলকাতা — দ্বাদশ আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে কলকাতার রেড রোডে অনুষ্ঠিত বিশাল কর্মসূচির কেন্দ্রে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার সকালে হাজার হাজার মানুষের সঙ্গে যোগাভ্যাসে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি অনুষ্ঠানস্থল ঘুরে অংশগ্রহণকারীদের অনুশীলনও খতিয়ে দেখেন তিনি। এমনকি কয়েক জনের যোগাভ্যাসের ভঙ্গি ভুল হলে তা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে শুধরে দিতেও দেখা যায় প্রধানমন্ত্রীকে।
দু’দিনের পশ্চিমবঙ্গ সফরে শনিবার কলকাতায় পৌঁছেছিলেন মোদী। পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে হুগলির তারকেশ্বরে অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পর রাতে তিনি লোকভবনে ছিলেন। রবিবার ভোরেই পৌঁছে যান রেড রোডে, যেখানে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে রাজ্য সরকারের উদ্যোগে বৃহৎ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল।
মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্যপাল আর এন রবি, রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিক এবং বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তি। নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী নিজেও একাধিক যোগাসনের অনুশীলনে অংশ নেন। বসে এবং দাঁড়িয়ে বিভিন্ন আসন করতে দেখা যায় তাঁকে।
যোগাভ্যাসের পর প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন। অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের যোগচর্চা পর্যবেক্ষণ করেন। কয়েক জনের আসনের ভঙ্গিতে ত্রুটি চোখে পড়তেই তিনি নিজে তা সংশোধন করে দেন। প্রধানমন্ত্রীর এই আচরণ উপস্থিতদের মধ্যে বিশেষ উৎসাহের সঞ্চার করে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মোদী বলেন, ‘এ বছরের আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল বিষয় হল স্বাস্থ্যকর বার্ধক্যের জন্য যোগ। যোগ শুধু শরীরচর্চা নয়, এটি সুস্থ জীবনযাপনের একটি পূর্ণাঙ্গ পথ। নিয়মিত যোগাভ্যাস মানুষের শরীর ও মনকে সুস্থ রাখে এবং বয়স বাড়লেও কর্মক্ষমতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।’
তিনি আরও বলেন, ‘৪০ বছর বয়সেও যোগচর্চার মাধ্যমে ২০ বছরের সতেজতা ধরে রাখা সম্ভব। যোগ মানুষের সঙ্গে মানুষের এবং মানুষের সঙ্গে প্রকৃতির সংযোগ গড়ে তোলে।’
বিশ্বে যোগের প্রসারে স্বামী বিবেকানন্দ, মহর্ষি অরবিন্দ এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদানের কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, ভারতীয় সংস্কৃতির এই অমূল্য ঐতিহ্য আজ বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের জীবনযাপনের অংশ হয়ে উঠেছে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁর বক্তব্যে আন্তর্জাতিক যোগ দিবসকে বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠা করার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, যোগ শুধুমাত্র শরীরচর্চা নয়, এটি সুস্থ সমাজ গঠনেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
রেড রোডের পাশাপাশি কলকাতা এবং রাজ্যের বিভিন্ন জেলায়ও আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালিত হয়েছে। হুগলি, গঙ্গাসাগর, চন্দননগর, বীরভূম-সহ একাধিক জায়গায় হাজার হাজার মানুষ যোগাভ্যাসে অংশ নেন। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে বড় পর্দায় রেড রোডের অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচারও করা হয়।
অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী লোকভবনে ফিরে যান। পরে গার্ডেনরিচে গিয়ে দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত তিনটি অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ ভারতীয় নৌসেনার হাতে তুলে দেন।
