দার্জিলিং — নতুন সরকার গঠনের পর বিজেপির একাংশের বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ সামনে আসায় ফের কড়া অবস্থান নিল রাজ্য নেতৃত্ব। দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে রাজ্যের শ্রম ও পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিংহ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, শুধু সতর্কবার্তা দিয়ে থেমে থাকলে হবে না, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে হবে। তাঁর মতে, যাঁরা তোলাবাজির সঙ্গে যুক্ত, তাঁরা দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করছেন এবং তাঁদের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ করা জরুরি।
উত্তরবঙ্গ সফরে থাকা অর্জুন মঙ্গলবার দার্জিলিংয়ের বিভিন্ন চা-বাগান পরিদর্শনের পাশাপাশি শ্রম দপ্তরের প্রশাসনিক বৈঠকেও যোগ দেন। সেই সময় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, দলের ভেতরে যাঁদের বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের বিষয়ে কোনও রকম নমনীয়তা দেখানো উচিত নয়। তাঁর বক্তব্য, ‘উষ্মা প্রকাশ করে কোনও লাভ নেই। যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। যাঁরা তোলাবাজি করছেন, তাঁরা দলের ক্ষতি করছেন। এই ধরনের কাজের সঙ্গে যুক্তদের দল থেকে বহিষ্কার করা উচিত।’

সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে বিজেপি কর্মী পরিচয় দিয়ে বালিভর্তি লরি থামিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ ওঠে। যদিও ওই ভিডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি, তবুও ঘটনাটি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিরোধীরা এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে বিজেপিকে আক্রমণ করলেও, রাজ্য নেতৃত্ব প্রকাশ্যে বিষয়টির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।
র আগেই বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য দলীয় কর্মীদের ১৫ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে সতর্ক করেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, এই সময়ের মধ্যে কেউ নিজেদের সংশোধন না করলে দল কঠোর ব্যবস্থা নেবে এবং বিজেপি কীভাবে সংগঠনের শৃঙ্খলা বজায় রাখে, তা দেখিয়ে দেওয়া হবে।

একই সুর শোনা গিয়েছে রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষের গলাতেও। তিনি স্বীকার করেছিলেন, তোলাবাজির সংস্কৃতি একদিনে নির্মূল করা সম্ভব নয়। তবে দল বিষয়টির উপর কড়া নজর রাখছে বলে জানিয়ে তিনি সাধারণ মানুষকে অভিযোগ জানানোর আহ্বান জানান। তাঁর দাবি, ইতিমধ্যেই অভিযোগের ভিত্তিতে ২০০ থেকে ২৫০ জন দলীয় কর্মীকে সাসপেন্ড করা হয়েছে এবং তদন্তের প্রক্রিয়া চলছে।
পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালও সম্প্রতি একই বার্তা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তোলাবাজি বা দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত কাউকে কোনওভাবেই রেয়াত করা হবে না। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
এদিকে, সোমবার কোচবিহারের দিনহাটায় তোলাবাজির অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিজেপির অন্দরেই উত্তেজনা তৈরি হয়। দলীয় এক নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে কয়েক জন বিজেপি কর্মী কাঁচা ডিম ছুড়ে বিক্ষোভ দেখান। সেই ঘটনার পরেই অর্জুন সিংহের মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
দলের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রাখতে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় রাখতে বিজেপি নেতৃত্ব ধারাবাহিকভাবে কড়া বার্তা দিচ্ছে। অর্জুন সিংহের বক্তব্যে স্পষ্ট, শুধু সতর্কবার্তা নয়, অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংগঠনের স্বার্থে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষেই রাজ্য নেতৃত্ব এগোতে চাইছে।
