কলকাতা— কলকাতা পুরসভার নির্বাচিত মেয়র ফিরহাদ হাকিমের পদত্যাগের পর বর্তমানে প্রশাসকের হাতেই চলছে পুরসভার দায়িত্ব। এই পরিস্থিতিতে নাগরিক পরিষেবা যাতে কোনওভাবেই ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করতে নতুন উদ্যোগ নিল রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর। মঙ্গলবার থেকে চালু হচ্ছে ‘মুখোমুখি’ নামে একটি বিশেষ টোল-ফ্রি পরিষেবা। এর মাধ্যমে কলকাতা পুরসভা এলাকার বাসিন্দারা সরাসরি পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের কাছে নিজেদের অভিযোগ, সমস্যা এবং পরামর্শ জানাতে পারবেন।
নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতি মঙ্গলবার বিকেল ৩টা থেকে ৪টে পর্যন্ত এই পরিষেবা চালু থাকবে। শুধুমাত্র কলকাতা পুরসভা এলাকার নাগরিকরাই এই সুবিধা পাবেন। এ জন্য চালু করা হয়েছে টোল-ফ্রি নম্বর ১৮০০২০৩৫১২৩। নির্দিষ্ট সময়ে ফোন করে নাগরিকরা পুর পরিষেবা সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ, সমস্যা কিংবা উন্নয়নমূলক পরামর্শ জানাতে পারবেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলি দ্রুত প্রশাসনের নজরে এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, নির্বাচিত পুরবোর্ড না থাকলেও নাগরিক পরিষেবার গতি যাতে কমে না যায়, সেদিকেই বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে রাজ্য সরকার। বর্তমানে পুরসভার কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর নেতৃত্বে পুরসভার দৈনন্দিন কাজ চললেও সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের একটি কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলতেই এই নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।নবান্নের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, নাগরিকদের অভিযোগ ও মতামতের ভিত্তিতে পরিষেবার মা
ন আরও উন্নত করাই ‘মুখোমুখি’ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য। শহরবাসীর সমস্যার দ্রুত সমাধান এবং প্রশাসনের জবাবদিহি আরও বাড়াতে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলেও মনে করছে সরকার।
উল্লেখ্য, ফিরহাদ হাকিম মেয়র থাকাকালীন ‘টক টু মেয়র’ নামে একটি জনপ্রিয় কর্মসূচি চালু করেছিলেন। সেই কর্মসূচির মাধ্যমে সপ্তাহে একদিন তিনি সরাসরি নাগরিকদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের অভিযোগ ও পরামর্শ শুনতেন। তবে বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর সেই কর্মসূচি স্থগিত হয়ে যায়। পরে ফিরহাদ হাকিম মেয়রের পদ থেকে ইস্তফা দিলে ‘টক টু মেয়র’ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।
প্রশাসনিক মহলের মতে, নতুন ‘মুখোমুখি’ কর্মসূচি সেই উদ্যোগেরই নতুন সংস্করণ। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছেন, আগামী ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে কলকাতা পুরসভার নির্বাচিত বোর্ড গঠনের লক্ষ্য রয়েছে। ততদিন পর্যন্ত নাগরিক পরিষেবা আরও সহজলভ্য ও জনমুখী করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হবে।
পুর দপ্তরের এক আধিকারিকের বক্তব্য, নাগরিকদের সরাসরি অংশগ্রহণের মাধ্যমেই পুর পরিষেবাকে আরও স্বচ্ছ, দ্রুত এবং কার্যকর করে তোলা সম্ভব। সেই লক্ষ্যেই ‘মুখোমুখি’ কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে, যাতে কলকাতার বাসিন্দাদের মতামত, অভিযোগ এবং পরামর্শের ভিত্তিতে আরও উন্নত ও নাগরিকবান্ধব শহর গড়ে তোলা যায়।
