বারুইপুর — বারুইপুরে নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় নির্যাতিতার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম শাস্তির আশ্বাস দিলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। মঙ্গলবার সকালে বিজেপির একটি প্রতিনিধি দলকে নিয়ে তিনি নির্যাতিতার বাড়িতে যান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন তাঁরা।
পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের পর অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, ‘কাউকে ছাড়া হবে না। এই ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে পুলিশ প্রশাসনের কোনও গাফিলতি প্রমাণিত হলেও কাউকে রেহাই দেওয়া হবে না। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন।’
মন্ত্রী জানান, সরকারের দ্রুত পদক্ষেপে নির্যাতিতার পরিবারও সন্তোষ প্রকাশ করেছে। তাঁর দাবি, পরিবারের সদস্যরা মুখ্যমন্ত্রীর উপর পূর্ণ আস্থা রেখেছেন এবং সরকারের ভূমিকায় সন্তুষ্ট বলে জানিয়েছেন।
ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে দ্রুত ছয় সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মূল অভিযুক্ত আনন্দ সর্দার-সহ তিন জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তদন্ত আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং সমস্ত তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিনই মুখ্যমন্ত্রী বারুইপুরে গিয়ে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে। তার আগে রাজ্য পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে তিনি তদন্তের অগ্রগতি নিয়েও আলোচনা করেন। সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এই মামলায় দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে বারুইপুরের ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে পদক্ষেপ করেছে জাতীয় মহিলা কমিশন। কমিশনের পক্ষ থেকে রাজ্যের পুলিশ মহাপরিচালকের কাছে সাত দিনের মধ্যে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতি, প্রশাসনের গৃহীত পদক্ষেপ এবং ঘটনার পর গণপিটুনিতে এক ব্যক্তির মৃত্যুর বিষয়েও পৃথকভাবে তথ্য চাওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, নাবালিকার দেহ উদ্ধারের পর থেকেই বারুইপুরের ধপধপি এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভে সামিল হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং দ্রুত তদন্ত শুরু হয়।
সরকারের দাবি, নারী নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনও আপস করা হবে না। দোষীদের আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতেই তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
